পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ উত্তর প্রদেশের সম্ভল জেলায় ফের গভীর রাতে চলল বুলডোজার। সরকারি জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগে গভীর রাতে বুলডোজার অভিযান চালিয়ে মসজিদ ভেঙে ফেলল প্রশাসন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনের অভিযোগ, নাখাসা থানার অন্তর্গত কাসেরওয়া গ্রামে অবস্থিত মুস্তফা কাদরী মসজিদটি যে জমির উপর নির্মাণ হয়েছিল, সেই জমি গ্রামসভার কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা ছিল। জমিটি সংরক্ষিত হওয়ায় সেখানে স্থায়ী নির্মাণকে বেআইনি বলে দাবি করেছে প্রশাসন।
অভিযানের সময় দুটি বুলডোজার ব্যবহার করে মসজিদের একাংশ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়। উল্লেখ্য, এর আগেই ওই মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলেছিল প্রশাসন।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল গ্রাম পরিদর্শন করে। স্থানীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ওই প্রতিনিধিদল এলাকায় গিয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানায়। অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে সমাজবাদী পার্টি। দলের সাংসদ জিয়া-উর-রহমান বারক দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি।
প্রশাসন অন্যায়ভাবে মসজিদ ভেঙে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এনিয়ে আইনি লড়াই চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুন:
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই তড়িঘড়ি করে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে, মসজিদ ভাঙার পর প্রশাসন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজও শুরু করে। বুলডোজার দিয়ে কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং পরে ধ্বংসাবশেষ সরানোর একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সেই ভিডিও ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।আরও পড়ুন:
আরঅ অভিযোগ তোলা হয়েছে, অভিযান চলাকালীন নাকি মসজিদ চত্বর থেকে বেশ কিছু পোস্টার উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সেখানে নবী মুহাম্মদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে লেখা কিছু পোস্টার পাওয়া গেছে। তাতে লেখা ছিল, "আই লাভ মুহাম্মদ"। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ পৃথক একটি মামলা রুজু করেছে। বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।