পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ পবিত্র কুরআন শরিফের একটি দুষ্প্রাপ্য এবং প্রাচীন হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সম্প্রতি ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেডিটের এক ব্যবহারকারী তাঁর পরিবারের কয়েক প্রজন্ম ধরে পরম যত্নে আগলে রাখা এই কুরআন শরিফটি সবার সামনে তুলে ধরেছেন। মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী শৈলীতে তৈরি এই পাণ্ডুলিপিটি কেবল দেখার মতো সুন্দরই নয়, বরং এটি ইসলামি হস্তশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, এটি কোনও কুরআনের খণ্ডাংশ নয়, বরং সুরা আল-ফাতিহা থেকে শুরু করে শেষ সুরা পর্যন্ত সম্পূর্ণ একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি। প্রতিটি লাইন অত্যন্ত ধৈর্য ও নিপুণতার সঙ্গে কালিতে হাতে লেখা হয়েছে।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এর সম্পূর্ণ ‘ভোকলাইজেশন’ বা স্বরচিহ্ন। লিপিকার মূল পাঠ্য থেকে স্বরচিহ্নগুলোকে আলাদা করার জন্য লালসহ বিভিন্ন রঙের কালি ব্যবহার করেছেন, যা পাঠকদের উচ্চারণ ও পাঠের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।আরও পড়ুন:
বইটির বাঁধাইশৈলীও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পাণ্ডুলিপিটি নরম চামড়ার ওপর কারুকার্যখচিত মলাটে আবদ্ধ। এটি বন্ধ করার জন্য একটি ভাঁজ করা ফ্ল্যাপ বা অতিরিক্ত অংশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মরক্কো ও মাগরেবি অঞ্চলের পাণ্ডুলিপি তৈরির ঐতিহ্যবাহী ধারা।
মলাটের ঠিক কেন্দ্রে রয়েছে একটি বাদাম আকৃতির পদক সদৃশ নকশা, যা শতাব্দী ধরে উত্তর আফ্রিকার কুরআন বাঁধাইয়ের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।আরও পড়ুন:
পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পাতায় দীর্ঘ ব্যবহারের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। রেডিট ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, বইটি অত্যন্ত পুরনো এবং কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁর পূর্বপুরুষরা এটি নিয়মিত তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করতেন। মাগরেবি লিপির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এতে বড় ও গোলাকার হরফগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্যে ক্যালিগ্রাফিকে পবিত্র শিল্পের সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়। এমন একটি নিখুঁত পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে তৎকালীন লিপিকারদের যে অপরিসীম সময় ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়েছিল, তা বর্তমান সময়ে এসেও মানুষকে বিস্মিত করছে।
আরও পড়ুন:
পাণ্ডুলিপিটির মালিক রেডিটে তাঁর পোস্টের শেষে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে প্রার্থনা করেছেন; যারা কুরআন পাঠ করেন, আল্লাহ যেন তাদের সবার পাঠ কবুল করেন।