২৪ জুন। ফুটবল বিশ্বের কাছে দিনটি শুধুই একটি জন্মদিন নয়, এক কিংবদন্তির উদ্‌যাপন। ৩৯ বছরে পা দিলেন লিওনেল মেসি। আর তাঁর জন্মদিনের আবহেই ডালাস শহর যেন নীল-সাদা উন্মাদনায় ভেসে যাচ্ছে। শহরের রাস্তাঘাট, হোটেল, রেস্তোরাঁ— সর্বত্র একটাই নাম, লিও মেসি। মাঠে যেমন তিনি আর্জেন্টিনার নেতা, তেমনই সমর্থকদের কাছে তিনি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

চলতি বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রথম দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষে। মোট ১৮ গোল করে স্পর্শ করেছেন ফুটবল সম্রাট পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যার রেকর্ড।

বয়স যেন তাঁর কাছে শুধুই একটি সংখ্যা। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে এখনও একই দক্ষতায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছেন তিনি।

অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন চাপে পড়বেন মেসি। কিন্তু তিনি যে অন্য ধাতুতে গড়া। সেই ব্যর্থতার হতাশা ঝেড়ে ফেলেই জোড়া গোল করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক বিশেষ পরিকল্পনা করে চার ডিফেন্ডারের সামনে দু’জন ব্লকার নামিয়েছিলেন। কিন্তু মেসির ফুটবল-বুদ্ধি ও ক্ষিপ্রতার সামনে সেই কৌশলও ব্যর্থ হয়। মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

ডালাসের ঐতিহাসিক ডিলি প্লাজায় ঘুরতে আসা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেও এখন একটাই আলোচনা— আবার কি বিশ্বকাপ জিতবে মেসির দল?

সমর্থক মারিওর কথায়, “এবার মেসির উপর চাপ অনেক কম। তাই ওকে আরও ভয়ঙ্কর লাগছে। এই ছন্দ বজায় থাকলে সোনালি ট্রফি আবার আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে।”

তবে মেসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর গোলের ক্ষুধা যেন দিন দিন বাড়ছেই। ইরাকের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে জেতানোর পাশাপাশি নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে দিয়েছেন ১৬-তে। মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই তিনি পিছনে ফেলেছেন জ্যঁ ফঁতেঁ, গার্ড মুলার ও রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তিদের।

মাঠে এমবাপের উপস্থিতি যেন বিদ্যুতের ঝলকানি। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং ফিনিশিং ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর অস্ত্র।

ছোটবেলায় ভিডিও গেমে ভাইয়ের কাছে হেরে মন খারাপ করা সেই ছেলেটাই আজ ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা। দিদিয়ের দেশঁর দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু এখন এমবাপে।

একদিকে মেসির অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও শিল্পসৌন্দর্যে ভরা ফুটবল। অন্যদিকে এমবাপের গতি, শক্তি এবং আধুনিক ফুটবলের বিস্ফোরক রূপ। একজন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করতে চান, অন্যজন সেই ইতিহাস ছাপিয়ে নতুন যুগের সূচনা করতে মরিয়া।

বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে এই মহারণ। শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবেন— মেসির শান্ত জাদু, নাকি এমবাপের বিস্ফোরক ঝলক? সেই উত্তর পেতে এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের। শুরু হয়ে গিয়েছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথের কাউন্টডাউন।