পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে শনিবার রাতে সহ-আয়োজক কানাডার মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো। কানাডা এখনও পর্যন্ত কোনও দিন ‘শেষ ১৬’য় উঠতে পারেনি। অন্যদিকে মরক্কো এমন একটা দল যারা ২০০২ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং বাছাই পর্বের পুরো সময়জুড়ে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে আফ্রিকান ও বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। মরক্কো এখানে এসেছে সম্ভবত মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী নক আউট পর্বের দল হিসেবে। এই লড়াইয়ের পুরস্কার হল কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
আরও পড়ুন:
ম্যাচের মূল কৌশলগত লড়াইটি হবে কানাডার রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে খেলা বা ‘বিল্ড আপ’ করার ক্ষমতার বিপরীতে মরক্কোর ‘হাই প্রেস’ বা উপরের দিকে উঠে এসে চাপ সৃষ্টির কৌশলের মধ্যে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোচ ওয়াহবি দলের মধ্যে বেশি করে আক্রমনাত্মক মনোভাব এনেছেন। আশরাফ হাকিমিরা যদি বিপক্ষের আক্রমণ তাড়াতাড়ি ভেস্তে দিতে পারেন, তা হলে তারা oুত ও সরাসরি আক্রমণে উঠতে পারে। যে কৌশলটি রেকর্ড গড়ার সময় ইউরোপীয় দলগুলির বিপক্ষে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনও আফ্রিকান দেশের তুলনায় টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ভালো জায়গায় অবস্থান এবং দীর্ঘ সময় ধরে অপরাজিত থাকার রেকর্ড, এই সবের সুবাদে মরোক্কোকেই এই ম্যাচে ফেবারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সহ আয়োজক হিসেবে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে কানাডা হিউস্টনে পা রেখেছে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ তাদের সেই প্রতিভাবান ‘সোনালী প্রজন্মের’ খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে নিজেদের যাচাই করার প্রথম সুযোগ।
২০২৪ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া জেসি মার্শ এমন একটি দলকে সুংসহত এক ইউনিটে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, যাকে কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে শত্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ঘরের মাঠে আরও অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়া।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, আধুনিক ফুটবলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসাধারণ ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মরক্কো এখানে এসেছে। ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের অধীনে চার বছর আগে মরক্কো সেমিফাইনালে উঠেছিল, যা কোনও আফ্রিকান দেশের জন্য বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য। এরপরে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ টানা ১৯টি ম্যাচ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল । ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোচ মুহাম্মদ ওয়াহবি দলের সেই প্রতিযোগিতামুলক ভিত্তি বজায় রাখার পাশাপাশি আক্রমনাত্মক খেলার কৌশন যুক্ত করেছেন।
ফলে চলতি বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে যে কোনও প্রতিপক্ষের পক্ষেই মরক্কোকে হারানো কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন:
হিউস্টনে শনিবার ৭২ হাজার দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সিংহভাগ থাকবে কানাডার। তারা ব্যাপক কোলাহল ও উদ্দীপনা তৈরি করবে। কিন্তু মরক্কো একাধিক টুর্নামেন্টে প্রমাণ করেছে যে তারা চাপের মুখে দারুখ খেলে। চলতি বিশ্বকাপে ‘রাউন্ড অফ ৩২’এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মত দলের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে মরক্কো ১-১ গোলে খেলা শেষ করে। তারপরে পেনাল্টি শুটআউটে ডাচদের বিদার করে দেওয়া প্রমাণ করছে মরক্কোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নক আউট ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে।