পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কুম্ভ মেলা মোনালিসা’ বা ‘রুদ্রাক্ষ গার্ল’ নামে পরিচিত মোনালিসা ভোঁসলে আবারও খবরের শিরোনামে। নাবালিকা অবস্থায় বিবাহের অভিযোগে তাঁর স্বামী ফরমান খানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় নতুন মোড়। মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলার বিশেষ পকসো আদালত ফরমান খানের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাণ্ডলেশ্বরের বিশেষ পকসো আদালত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তকে আগাম আইনি সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের একটি মন্দিরে মোনালিসা ভোঁসলে ও ফরমান খানের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

এই আন্তঃধর্মীয় বিবাহ সামনে আসার পরই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বিবাহের সময় মোনালিসার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর এবং ভুল জন্মতারিখ উল্লেখ করা নথি দেখিয়ে তাঁকে কেরালায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় পকসো আইন,, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয় ফরমানের বিরুদ্ধে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। 

মোনালিসার পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের নাবালিকা কন্যাকে কেরালায় নিয়ে গিয়ে বিবাহ করেন ফরমান খান।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বর থানায় মামলা রুজু হয়। পকসো বিশেষ আদালতের রায় অনুযায়ী, ফরমানের বিরুদ্ধে মেয়েটিকে কেরালায় পাঠিয়ে সেখানে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এই মামলার কারণে তাকে জামিন দেওয়া হয়নি। আদালত জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। প্রথমদিকে ফরমান খান দাবি করেছিলেন, বিবাহের সময় মোনালিসার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছিল।
তবে তদন্তে উঠে আসে, সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী তিনি তখনও নাবালিকা ছিলেন। এরপর থেকেই জমা দেওয়া পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখ সংক্রান্ত নথির সত্যতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রি করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছিল। মোনালিসা ভোঁসলে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে ফরমান খানের সঙ্গে তাঁর বিবাহকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।