পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দাম্পত্য কলহ ও বৈবাহিক বিবাদের জেরে এক অপরের আত্মীয়দের মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং শিশুদের ব্যবহার করে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। পাঁচ বছরের ভাইপোকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পিসির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পকসো মামলা খারিজ করে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ পুণের খড়কি থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ নম্বর ধারা এবং ২০১২ সালের পকসো আইনের ৮ নম্বর ধারায় রুজু হওয়া এফআইআর সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে। একই সাথে এই সংক্রান্ত সমস্ত আইনি প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।

মামলার রায় দিতে গিয়ে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, “দাম্পত্য বিরোধ ও পারিবারিক বিবাদের জেরে একপক্ষ অন্যপক্ষকে শিক্ষা দিতে বা প্রতিশোধ নিতে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের টেনে আনে— এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি চিত্র। ক্ষেত্রবিশেষে একে অপরকে অপমান বা প্রতিপন্ন করার জন্য শিশুদের পর্যন্ত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।”

মামলার পটভূমি খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বোম্বে হাইকোর্ট এই এফআইআর খারিজ না করে চরম ভুল করেছিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিচারকের কাছে নথিভুক্ত করা শিশুটির জবানবন্দি পর্যবেক্ষণ না করেই হাইকোর্ট অভিযুক্তকে ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে নির্দেশ দিয়েছিল, যা একেবারেই অনুচিত।

১৬৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া নাবালকের জবানবন্দিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, অভিযোগকারিণী (মা) যেমনটা দাবি করেছেন, তেমন কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। পূর্বে বোম্বে হাইকোর্টেরই অন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিকভাবে মামলাটিতে কোনো সারবত্তা না পেয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও পরবর্তীকালে হাইকোর্ট "মিনি ট্রায়াল পরিচালনা করা সম্ভব নয়" অজুহাতে মামলাটি খারিজ করতে অস্বীকার করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি সব তথ্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আবেদনকারী পিসিকে দীর্ঘ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি হয়রানির মুখোমুখি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।