পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গত বছর গুজরাতের অহমদাবাদ থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়া এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের তদন্ত শেষ হতে আরও অন্তত ছ’সপ্তাহ সময় লাগবে। সুপ্রিম কোর্টকে এমনটাই জানাল তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফ্‌ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। 

তারা জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের খসড়া তৈরি হয়ে যাবে। তবে দুর্ঘটনার জন্য পাইলটদের দিকে আঙুল তুলে যে খবর ছড়িয়েছে, তার জেরে সাক্ষীরা প্রভাবিত হচ্ছেন বলেও শীর্ষ আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

২০২৫ সালের ১২ জুন অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনের একটি ভবনে ধাক্কা মেরে ভেঙে পড়ে। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে ককপিটের কথোপকথনের একটি অংশ সামনে আসায় পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ককপিটে এক পাইলট অপরজনকে জ্বালানির সুইচ বন্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।

এর ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের দায়ী করে একাধিক খবর প্রকাশিত হয়। এই প্রচারের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মৃত ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের নবতিপর বাবা। সেই মামলাতেই গত ১১ জুলাই শীর্ষ আদালতে নিজেদের হলফনামা জমা দেয় এএআইবি।

তদন্তকারী সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, বর্তমানে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত ও ফরেন্সিক পরীক্ষার কাজ পুরোদমে চলছে।

আশা করা হচ্ছে, আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে এবং অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। তবে সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের আগাম দোষারোপ করায় সাক্ষীদের বয়ানে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পূর্বধারণার বশবর্তী হয়ে অনেক সাক্ষীই গুটিয়ে যাচ্ছেন এবং খোলামেলা ও নিরপেক্ষভাবে কথা বলতে চাইছেন না, যা তদন্তের পথে যথেষ্ট সমস্যা তৈরি করছে।

এএআইবি আরও জানিয়েছে যে, ভয়েস রেকর্ডিংয়ের পাঠোদ্ধার, রেডার ও কথোপকথনের তথ্য, আবহাওয়ার খুঁটিনাটি, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং ইঞ্জিনের ফরেন্সিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ২০২৫ সালের বিমান আইনের ১১ নম্বর ধারা মেনে নিযুক্ত আধিকারিকরা বোয়িং ৭৮৭ শ্রেণির বিমানের পাইলট ও কর্মীদের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছেন। চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে এএআইবি।