পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনগ্রসর মুসলিম (বিসিএম) হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এই রায় দিয়েছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এবার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্য সরকারের সচিবের মাধ্যমে শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করা হয়েছে।
২০২৪ সালে তামিলনাড়ু সরকার একটি সরকারি আদেশ জারি করেছিল।
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় ২০২২ সালে। হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া থুথুকুডি জেলার এক ব্যক্তি ২০১৫ সালে কায়াথারের সুন্নাত জামাতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং শংসাপত্র লাভ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি 'মুসলিম লেব্বাই' সম্প্রদায়ভুক্ত হিসেবে একটি জাতিগত শংসাপত্রের জন্য কায়াথার তহসিলদারের কাছে আবেদন জানান। কিন্তু তহসিলদার তাঁর আবেদনটি খারিজ করে দিলে তিনি প্রতিকার চেয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এই মামলার শুনানিপর্ব চলাকালীনই তামিলনাড়ু সরকার ২০২৪ সালের ওই বিতর্কিত সরকারি নির্দেশিকাটি জারি করে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা বাতিল করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, হিন্দুধর্ম থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর কোনো ব্যক্তির পূর্বতন জাতিগত মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বজায় থাকতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ইসলাম ধর্ম সামাজিক সমতার ওপর জোর দেয় এবং এখানে কোনো ধরনের সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের স্থান নেই।
রায়ে আদালত উল্লেখ করে, "ইসলাম একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আল্লাহর চোখে সবাই সমান। এখানে কোনো সামাজিক স্তরবিন্যাস নেই।" আদালত আরও জানায় যে, ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মপ্রচারকরা হিন্দুধর্মের বর্ণপ্রথার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজেদের ধর্মে সামাজিক সমতার বার্তা প্রচার করে এসেছেন। তাই ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ইসলাম ধর্মেও সামাজিক স্তরবিন্যাস রয়েছে দাবি করে একাংশকে 'অনগ্রসর' হিসেবে চিহ্নিত করা কোরআনের আদর্শের পরিপন্থী।
হাইকোর্টের এই নির্দেশ খারিজ করার আর্জি নিয়েই শীর্ষ আদালতে গিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এই আপিল মামলায় হাইকোর্টের মূল আবেদনকারী সমীর আহমেদ এন.-এর পাশাপাশি জেলা শাসক, রাজস্ব বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং তহসিলদারকে পক্ষ করা হয়েছে। তবে শীর্ষ আদালত যাতে তাঁদের বক্তব্য না শুনে একতরফাভাবে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ বা স্থগিতাদেশ না দেয়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিপক্ষরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছেন।