পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির ফি কাঠামো বা টিউশন ফি-তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। একটি মামলার শুনানির সময় দেশের শীর্ষ আদালত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানায়, "এই দেশে আমাদের চিকিৎসকদের প্রয়োজন রয়েছে।" বেসরকারি কলেজগুলির ফি অতিরিক্ত বা আকাশছোঁয়া দাবি করে দায়ের করা একটি বিশেষ অনুমতি পিটিশন বুধবার খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি বি ভি নাগারথ্না এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ রাজস্থান হাইকোর্টের একটি পুরনো রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি করছিল। এর আগে হাইকোর্টও এক মেডিক্যাল পরীক্ষার্থীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।

ওই পরীক্ষার্থীর দাবি ছিল, রাজস্থানের বেসরকারি কলেজগুলিতে বার্ষিক টিউশন ফি ১৮.৯০ লক্ষ টাকা থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, যা অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক ৮ লক্ষ টাকার আয়সীমার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।

শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, বিপুল পরিমাণ ফির কারণে ইডব্লিউএস কোটা থাকা সত্ত্বেও দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য এমবিবিএস পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আদালত যেন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে এই ফি-র একটি সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই আর্জি প্রত্যাখ্যান করে কোনো রকম নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলে, "চিকিৎসা শিক্ষার জন্য উন্নত পরিকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক এবং আধুনিক সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়।

তাই ফি নির্ধারণ করাটা মূলত সংশ্লিষ্ট নিয়ামক সংস্থা ও সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।"

শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয়, ফি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের মতো সংস্থাগুলির এক্তিয়ারভুক্ত। আইনি ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট বেআইনি বা খামখেয়ালিপনা প্রমাণিত না হলে আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবে না, যা এই বর্তমান মামলায় দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন আবেদনকারী। বেঞ্চ মন্তব্য করে, "কোনো একজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে বলতে পারেন না যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি অনেক বেশি এবং সেটিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য করে দিতে হবে।" আদালতের পরামর্শ, আর্থিক সমস্যা থাকলে শিক্ষার্থীরা বৃত্তির সুযোগ নিতে পারেন।