দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর, সড়ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। তার মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত করে। এত কম সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। এমনকি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে মৃতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, রাজধানী কারাকাসের একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, অনেক ভবনে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ছাড়াও ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারাকাসের লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা এলাকা। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ভেনেজুয়েলার বড় ভূমিকম্পেও এই দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার উপকূল এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দ্বীপের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতল এলাকায় মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্পের কম্পন ভেনেজুয়েলার সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী কলম্বিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ বিপর্যয় এমন এক দিনে ঘটেছে, যেদিন দেশটিতে জাতীয় ছুটি ছিল। ফলে অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

দেশটির বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এই কঠিন সময়ে তিনি দেশের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছেন এবং সবার জন্য প্রার্থনা করছেন।

সরকার এখনও চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তথ্য বলছে, ভেনেজুয়েলা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা জানা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।