পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আধার কার্ড কোনোভাবেই ভারতের নাগরিকত্ব, স্থায়ী বাসিন্দা (ডোমিসাইল) বা বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না—এই দাবি তুলে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও দেশের সমস্ত রাজ্য সরকারকে নোটিশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্র, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছ থেকে জবাব তলব করেছে। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটিকে এই সংক্রান্ত পূর্ববর্তী অন্যান্য বিচারাধীন মামলার সাথে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী অশ্বিনী দুবের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে এই পিটিশন দাখিল করা হয়। আবেদনকারীর মূল দাবি হলো—আধার কার্ডকে যেন কঠোরভাবে শুধুমাত্র ‘পরিচয় যাচাইকরণের’ একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, নাগরিকত্ব বা জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে নয়।
আরও পড়ুন:
আবেদনে ২০১৬ সালের আধার আইনের স্পষ্ট ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আধার আইনের ৯ নম্বর ধারায় স্পষ্ট করে বলা রয়েছে, ‘আধার কার্ড কোনোভাবেই নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণপত্র বা সাক্ষ্য হতে পারে না’। ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছিল, আধার কেবল পরিচয়ের প্রমাণ, নাগরিকত্ব বা জন্ম তারিখের নয়।
আরও পড়ুন:
মামলাকারীর অভিযোগ, আইনের এই স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও ভারতের প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে এই নিয়মের চরম লঙ্ঘন হচ্ছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, স্কুলের ভর্তি, সম্পত্তি কেনাবেচা, জন্ম শংসাপত্র তৈরি, রেশন কার্ড এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেও আধার কার্ডকে বয়স ও নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশনের আবেদনপত্রে আধার কার্ডকে বাসস্থান ও জন্ম তারিখের একক প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য করা হচ্ছে। এই সুযোগের অপব্যবহার করেই ভারতে আসা অনুপ্রবেশকারী এবং বেআইনি অভিবাসীরা খুব সহজেই ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে।