পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে মহারাষ্ট্রের একটি পঞ্চায়েতের প্রধানকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। মহারাষ্ট্রের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দুই-সন্তান নীতিকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং সেকেলে বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ভারতের বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং জন্মহার হ্রাসের দিকে নজর রাখলে এই আইনের আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকে না।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানি চলছিল। তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে মহারাষ্ট্রের কাকোদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মঙ্গলা ভীমরাও ইঙ্গলেকে পদ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। শুনানিপর্বে বিচারপতি নরসিংহ জানান, বর্তমানে দেশে জন্মহার কমে প্রায় ১.৭-এ এসে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি কেরল বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে এই হার কয়েকটি দেশের চেয়েও নিম্নমুখী। এই প্রসঙ্গে আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, দেশ এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাই জাভেদ বনাম হরিয়ানা রাজ্যের পুরনো মামলাটির রায় পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের নীতি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলেও মন্তব্য করেছে বেঞ্চ।আরও পড়ুন:
মামলাকারীর আইনজীবী প্রতীক আর বোম্বার্দে আদালতকে জানান, তৃতীয় সন্তান থাকার কারণে ১৯৫৯ সালের মহারাষ্ট্র গ্রাম পঞ্চায়েত আইনের ১৪(১)(জে-১) ধারায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে মঙ্গলা ভীমরাওকে অযোগ্য ঘোষণা করেন বুলধানার অতিরিক্ত কালেক্টর। এর পর অতিরিক্ত কমিশনার এবং বম্বে হাই কোর্টও সেই নির্দেশই বহাল রেখেছিল। তবে শীর্ষ আদালত আগেই গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেওয়া হাই কোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। বেঞ্চ জানিয়েছে, হাই কোর্টের ওই নির্দেশ তারা বাতিল করে দিতে পারত, কিন্তু বর্তমানে ওই নির্বাচিত সংস্থাটির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন:
দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরনের দুই-সন্তান নীতি কার্যকর রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বৃহত্তর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের আইনজীবী রুক্মিণী বোবডেকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ বা আদালত বান্ধব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।