পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সপ্তাহখানেক আগে পরিদর্শনে এসে স্বচ্ছতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার ফের সুভাষ সরোবর ঘুরে পরিস্থিতির বিশেষ কোনও পরিবর্তন না দেখে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সতর্ক করে তিনি জানিয়ে দেন, কাজের মান সন্তোষজনক না হলে ওই সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও সরকার ভাববে।
মঙ্গলবার সকালে আচমকাই বেলেঘাটার সুভাষ সরোবর এবং সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। সরোবর চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা, শৌচাগারের বেহাল অবস্থা, নিরাপত্তার ঘাটতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ দিন অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘যে সংস্থা সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তারা মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে, কিন্তু কাজের কোনও প্রতিফলন নেই। শৌচাগারে জল নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি কাজ ও নেশার আড্ডা চলছে। এই ধরনের অব্যবস্থা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রবীন্দ্র সরোবরেও প্রায় একই ছবি। আগের আমলে যা চলেছে, এখন আর তা চলবে না।’
তিনি জানান, সুভাষ সরোবর ও সংলগ্ন বস্তি এলাকা পরিদর্শনে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে এসেছে। পার্কের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শৌচাগারের মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরোবর চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ জোর দেওয়ার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রীর কথায়, ‘স্বচ্ছতার বিষয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা করলে জরিমানা করার ব্যবস্থাও করতে হবে।’ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে কড়া বার্তা দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘যদি সঠিকভাবে কাজ না হয়, তাহলে ওই সংস্থাকে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘এই সংস্থা তৃণমূল সরকারের আমলে বিনা টেন্ডারে কাজ পেয়েছিল।’ পরিদর্শনের শেষে আগের সরকারের সমালোচনায় সরব হয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই জায়গাকে কোনও দিনই পরিষ্কার রাখা হয়নি। উলটে এখানে প্রচুর গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। আমরা চাই সুভাষ সরোবরকে শহরের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে গড়ে তুলতে।’