পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তারাতলা কাণ্ডের জেরে শহরের বুকে গজিয়ে ওঠা নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। এই আবহে অডিট কমিটির তরফ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, শুধু তিন বছর নয়, বরং পাঁচ বছর আগে যে সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের প্ল্যান বা নকশা অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলিকেও অডিটের আওতায় আনতে হবে। সোমবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে অডিট কমিটির প্রথম পর্যায়ের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানান, আপাতত শহরের মাত্র ১১টি বহুতলকে নির্মাণের জন্য পুনরায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।।

এর আগে তারাতলা বিপর্যয়ের পর রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশে কলকাতা, বিধাননগর, বরানগর, কামারহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলগুলির নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এই নির্মাণগুলির সার্বিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ১১ সদস্যের একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করে সরকার। মূলত জি+৫ বা তার চেয়ে উঁচু নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির নকশায় কোনও রকম অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে। নিয়মে বড় ধরনের গলদ থাকলে বাতিল করা হচ্ছে অনুমোদন, তবে ত্রুটি সামান্য হলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে।

অডিট কমিটির পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাজ শুরুর পর মোট ৩৪৪টি নির্মীয়মাণ বহুতলের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০০টি বহুতলের নির্মাণকারী সংস্থা পুনরায় কাজ শুরুর জন্য কমিটির কাছে আবেদন জানায়।

সেই আবেদন খতিয়ে দেখে মোট ১৬০টি বহুতলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিটি। এরপর ৪১টি বহুতলের রিপোর্ট টেকনিক্যাল কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং সব শেষে চূড়ান্তভাবে মাত্র ১১টি বহুতলকে আপাতত কাজ চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এত বিপুল সংখ্যক বহুতল কেন ছাড়পত্র পেল না, সে বিষয়ে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিকাঠামোগত ত্রুটির চেয়েও শ্রমিকদের সংক্রান্ত একাধিক গাফিলতির কারণে ছাড়পত্র আটকে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছে যে, কর্মরত শ্রমিকদের কোনও নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) বৈধ নথি নেই। তবে এই ধরনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে প্রশাসনের তরফ থেকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।