পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের ফলে নীল বাড়ি হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। তারপর থেকেই দলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফল ঘোষণার মাত্র এক মাসের মধ্যেই ভেঙে খান খান হয়েছে ঘাস্ফুল শিবির। এছাড়াও, একে একে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে পুরসভাগুলি।
গতকালই বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, আর এবার ফিরহাদ। এরফলে ছোট লালবাড়ি কলকাতা পুরসভাও তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার পথে।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, পদত্যাগ দিতে চেয়ে প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি সম্মতি চেয়েছিলেন ফিরহাদ। তাতে সম্মতি দেন মমতা। তাঁর কথায়, "ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নীধিরাম সরদার হতে চাই না। আমি এই পদের অসম্মান করতে চাই না।
মেয়রের চেয়ারের আলাদা সম্মান রয়েছে। সেই সম্মান নষ্ট করতে চাই না।" একইসঙ্গে আগামী দিনে যারা এই দায়িত্ব সামলাবেন তাঁদেরও শুভেচ্ছা জানান ফিরহাদ। আজ দুপুরে সাংবাদিক সম্মলন করে নিজের পদত্যাগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন ফিরহাদ। এদিন তিনি তাঁর মেয়াদের পুরসভার বিভিন্ন কাজ নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর মেয়াদকালে অনেক কাজ হয়েছে। কোভিড ছিল তাঁর সময়ে ছিল পুরসভার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘুর্নিঝড় আম্ফানের সময়েও পুরসভার কাছে চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। একইসঙ্গে তিনি জানান, আগে মেয়রের পাশাপাশি তিনি ছিলেন পুরমন্ত্রী। ফলে কোনও কাজের জন্য দরকার হলেই অনুমোদন পেতে সমস্যা হত না। কিন্তু, এবার সরকার বদলের ফলে সেই বিভিন্ন কাজের অনুমোদন পাওয়া কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য, মেয়রের চেয়ারে বসে মানুষের জন্য কাজ করতে না পারলে তা এই চেয়ারের অসম্মান করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এই অবস্থায় তাঁর ইস্তফা তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।