বাংলায় হচ্ছে দুই দফা ভোট। বাকি মাত্র কয়েকদিন। মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বাভাবিক কারণেই খুবই ব্যস্ত। একদিকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর দেখছেন। সেইসঙ্গে রয়েছে তাঁর নিজের কেন্দ্র কলকাতা ব¨র এলাকাও। এছাড়া তাঁকে কলকাতার বাইরে জেলাতেও প্রচারে যেতে হচ্ছে। এই ব্যস্ততার মধ্যেও পুবের কলম পত্রিকা এবং পুবের কলম ডিজিটাল চ্যানেলকে সময় দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান।

এখন বলা হয়ে থাকে "খেলা হচ্ছে"। আপনার কি মনে হয় খেলাটা এবার জোরদার হবে? 

ফিরহাদ হাকিম: সত্যি কথা বলতে কি এবার খেলা হচ্ছে না। এবার মানুষের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। এসআইআরের নামে আজ সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নামে প্রকৃত ভোটার যারা ম্যাপিংয়ে আছে,২০০২ সালে যারা ভোট দিয়েছে তাদের অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মামলাটি তুলেছেন বলে বিবেচনাধীনের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন আর ৪০ শতাংশ মানুষের ভাগ্য এখনও ঝুলে আছে। আবার আবেদন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। কিন্তু,এই এসআইআর-এর ধাক্কায় ২০০ মানুষ  মারা গেছেন, তাঁদের আমরা হারিয়েছি।। এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও জবাব নেই। সবাই জানে, বিজেপির পায়ের তলায় কোনও মাটি নেই। বলতে তো পারবে না অমিত শাহ যে, আমাদের মানুষের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। খালি বলবে ঘুসপেটিয়া আর রোহিঙ্গা। এদের ভোট নাকি মমতা বন্দ্যোপাধায় পান। সেই ধারণা নিয়ে অমিত শাহ পলিসি তৈরি করে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে এই লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি করছে।  

আমি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কত রোহিঙ্গা,কত ঘুসপেটিয়া পেলেন?ওঁরা চুপ ছিল, কোনও উত্তর দিতে পারেননি। তখন আমিই বললাম একটাও পাননি। সাধারণ বাংলার মানুষের ভোটে মমতা জেতেন। বাংলায় কোনও রোহিঙ্গা বা ঘুসপেটিয়া নেই। এটা একটা ধারণা তৈরি করা হয়েছে বাংলাকে বদনাম করার জন্য। পাশে দেশ থাকলে অনেকে যাতায়াত করেন। আসেন, চলে যান। যদি অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত সিল না করতে পারেন তখন এটা হয়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ঘুসপেটিয়া দিয়ে ভোট করার দরকার পড়েনি। রোহিঙ্গা কারা যারা মায়ানমার বা বার্মা থেকে এসেছেন। বার্মার সেনারা তাদরে উপর অত্যাচার করেছে। তারা হয়ত চট্টগ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাতে একটাও রোহিঙ্গা নেই। 

কিন্তু রোহিঙ্গার মোট সংখ্যা তো ১৪-১৫ লক্ষ অথচ বলা হচ্ছে ১ কোটি রোহিঙ্গা বাংলায় আছে। এটা নিয়ে কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম:এটা বিজেপির একটা মিথ্যাচার। এটার ওপর খেলাবলতে আমার দ্বিধা হচ্ছে। আমরা ২০০ সহনাগরিককে হারিয়েছি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। ওরা বলে খুন-খারাবি, আর বিজেপি মানুষকে টেনশন করিয়ে করিয়ে হত্যা করেছো। অনেকে স্ট্রোক হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই হিসেব কারও কাছে নেই। এটা আত্মসম্মানে লেগেছে আমাদের। আমরা যারা বাংলার বাঙালি, ভারতের বাঙালি তাদের কাছে আত্মসম্মানে লেগেছে। কেন একজন ভারতীয় বাঙালিকে বারবার প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি ভারতীয় নাগরিক! এটা কি অমিত শাহের বাবার ভারত?

নাকি মোদি সাহেবের বাবার ভারত? এটা আমাদের সকলের ভারত। আমার আব্বা-দাদুরা এখানে জন্মেছে। আমাদের সকলের সমান অধিকার আছে। অথচ বিজেপি আসার পর এই ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে যে, ঘুসপেটিয়া আছে। কোথায় রোহিঙ্গা,  কোথায় ঘুসপেটিয়া? এই করতে করতে বাঙালিদের ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানে আছে সেখানে বাঙালিদের মারধর করা হচ্ছে। কেন? আমরা তো ভারতীয় বাঙালি। 

অনুপ্রবেশ, যেটা এখন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথের প্রধান হাতিয়ার। এই বলে তারা বাংলায় ভোট প্রচার চালাচ্ছেন। এটা নিয়ে কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম:এটা কোনও হাতিয়ার নয়। এটা অপদার্থ বিজেপি,  যাদের বাংলায় নিজের পায়ের তলায় কোনও মাটি নেই। বিজেপি তাদের বাবাদের ডেকে নিয়ে আসে। যারা অথর্ব যারা অন্যের ওপর ভর দিয়ে থাকে। কখন মোদিজী আসবে কখন অমিত শাহ আসবে তবে ওদের মিটিং হবে। আর তাদের ওপর বাংলার মানুষ ভরসা করবে? সেই দলের ওপর ভরসা করবে যাদের বাংলায় কোনও মুখ নেই,বাংলা সম্পর্কে এরা কিছু জানে না। 

এই যে ঘুসপেটিয়ার কথা বলা হচ্ছে আপনি যেমনটা তুলে ধরলেন যে একজন রোহিঙ্গাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেটা বিহারেও পায়নি। কিন্তু সেটা নিয়ে প্রচার ছিল পুরোপুরি যে বিহারে ঘুসপেটিয়া আছে। এই বিষয় নিয়ে কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম: ওরা সাম্প্রদায়িক অর্থে এটা ব্যবহার করছে। ঘুসপেটিয়া মানে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ থেকে কারা আসবে?মুসলিমরা?  আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারতের প্রায় সমান। তাহলে ওখান থেকে মুসলিম কেন এখানে আসবে? সেখানে তো তারা অনেক বেশি নিরাপদ। যারা আসবে তারা তো হিন্দু। 

আপনি সারা বাংলা ঘুরেছেন। দেখেছেন যে এখানে তো হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে থাকে। পাড়ায় যদি কোনও নতুন লোক আসে তাহলে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কাকে খুঁজছেন, কোথায় যাবেন, হিন্দু-মুসলিম সকলেই জিজ্ঞেস করেন। তাহলে স্থানীয়রা তো বলতেন যে, এখানে ঘুসপেটিয়া আছে। কিন্তু, সেটা তো কেউ বলেনি। এটা নিয়ে কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম:ঘুসপেটিয়া মানে ওরা বলতে চায় মুসলিম। ঘুসপেটিয়া বাংলাদেশ থেকে আসবে না। আমরা এখানে যারা ভারতীয় মুসলিম তারা এখানে স্বগর্বে আছি। মুসলিমরা টার্গেট। সাম্প্রদায়িকভাবে হিন্দু ভাইদের বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, এরা সব এখানে মুসলিমদের নিয়ে আসছে। তাহলে তোমাদের সংখ্যা কমে যাবে। এটা নোংরা রাজনীতি। রবীন্দ্রনার এর বিরোধিতা করেছিলেন। আর এই নীচ দলটা হিন্দু-মুসলিম ভাগ করিয়ে ২০০০ জনকে খুন করিয়েছে গুজরাতে। যোগী রাজ্যে খুন, অত্যাচার চলছে। যার বাড়িতে মুরগির মাংস রয়েছে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। সেই অত্যাচারকে বাংলায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

এই যে ঘুসপেটিয়া তত্ত্ব এটার তো কোনও প্রমাণ নেই। সেন্সাস রিপোর্টে কোনও প্রমাণ নেই।

আর যেসব অন্য সমীক্ষা হয় তাতেও কোনও প্রমাণ নেই। তাহলে বিজেপি কোথা থেকে বলছে ওরা ঘুসপেটিয়া?

ফিরহাদ হাকিমnওরা ঘুসপেটিয়া নয়, এটা একটা মিথ্যা ধারণা তৈরি করা হয়েছে। এরা মিথ্যা প্রচার করছে। কিন্তু  ঘুসপেটিয়া মানে মুসলিমদের দিকে তারা ইঙ্গিত করছে। 

বাংলার মানুষ তো রাজনীতি সচেতন। এবার বিজেপি কেমন ফল করতে পারে? 

ফিরহাদ হাকিম: আমার মনে হয় বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই এসব দাড়িবাবা, মোটা ভাইদের ডেকে নিয়ে আসে।  আমাদের একটা আলাদা নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। আমরা রবীন্দ্রনাথ পড়ে বড় হয়েছি। ধর্মের ব্যাপারে ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের "যত মত তত পথ"-এ বিশ্বাসী। আমার বিবেকানন্দের আদর্শে বিশ্বাসী। এই সংস্কৃতি আজকে সংকটে। আসলে হিন্দুরা নন,বাঙালি সংস্কৃতিকে এরা নষ্ট করে দিতে চাইছে। যদি আমরা বাঙালি হিসেবে সংস্কৃতি রক্ষা করতে না পারি,তাহলে এই বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যাবে,বাঙালি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গুজরাত,বিহার,ইউপি থেকে যে বেনিয়াপার্টি আসছে তারা আমাদের সংস্কৃতি,অস্তিত্বকে নষ্ট করে দেবে। 

এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আপনি প্রচারে খুব ব্যস্ত। মুখ্যমন্ত্রী তো বাড়ি আসার সময় পান কিনা জানি না। তাঁরা যে বার্তা দিচ্ছেন, আপনি যে বার্তা দিচ্ছেন, এ সম্পর্কে কিছু বলুন। 

ফিরহাদ হাকিম: আমাদের মূল বার্তা হল "আবার জিতবে বাংলা"। এসআইআরের নামে অত্যাচার করেছে। বাংলার মানুষের ২ লক্ষ কোটি টাকা অন্যায়ভাবে কেন্দ্র আটকে রেখেছে। এটা উন্নয়নের টাকা। বিজেপি এখানে এসে মিথ্যাচার করছে। প্রথমে হিন্দু-মুসলিম ভাগ করার চেষ্টা করেছে। এবার বাঙালি, অবাঙালি ভাগ করার চেষ্টা করছে। বার বার বাংলার ওপর যেভাবে আঘাত করা হচ্ছে সেটার বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন। এই লড়াইয়ে "আবার বাংলা জিতবে"। মোদি বড়বড় কথা বলছেন,কিন্তু,বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম কখনও বলেছেন?বাংলার কত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন,মাতঙ্গিনী হাজরা,বিনয়-বাদল-দীনেশ,মাস্টারদা সূর্যসেন এছাড়াও আরও অনেক বাঙালি আছেন যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন যাদের নাম কেউ জানে না। আন্দামানের সেলুলার জেলে তাঁদের নাম লেখা রয়েছে। 

স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে যেটা বললেন যে, ওদের কোনও অবদান নেই এবং দেশের পতাকাকেও কোনওদিন সম্মান করেনি। এটা নিয়ে যদি একটু বলেন।

ফিরহাদ হাকিম: আরএসএস কোনওদিন সম্মান করেনি তারা সব সময় ভারতের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। মুসলিম লিগ যেমন ভারত ভাঙার চক্রে ছিল সেরকম আরএসএস তাদের সঙ্গ দিয়েছিল। আরএসএস সমানভাবে দায়ী। ওরা ভারতের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে এক হয়নি। ওরা সব সময় হিন্দুত্ববাদ করে দেশ ভেঙে একটা আলাদা রাষ্ট্র করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু,বল্লভভাই প্যাটেল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা ধরে রেখেছিলেন। আরএসএস ভারতকে শেষ করে দিচ্ছে। 

এখন প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। ২৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। তাদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল ভালোভাবে চলছে না। এটা নিয়ে কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম: এটা সুপ্রিম কোর্টের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টও যদি বিজেপির কথায় চলে তাহলে দেশ সর্বনাশের মুখে চলে যাবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর আমরা আশাবাদী। 

মোথাবাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটা ক্ষোভ থেকে। এ সম্পর্কে আপনি আগে বলেছিলেন। এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

ফিরহাদ হাকিমn  এটা পুরোপুরি বিজেপির চাল। বিজেপির বি টিম,সি টিম তৈরি করে এই ঘটনা করানো হয়েছে। এখানে কোনও বাঙালি যুক্ত নয়। পুরোটাই বাইরে থেকে মদত নিয়ে, উসকানি দিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শামসেরগঞ্জে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও একই কাজ করা হয়েছিল। বিএসএফ-দের উর্দি পরা ড্রেস ছিল কিন্তু পায়ে বুট ছিল না। 

২৭ লক্ষ মানুষ ভোট দিতে পারবে না। এদের বেশিরভাগই তৃণমূলের ভোটার। মমতা বন্দ্যোপাধায়ের পক্ষের ভোটার। এতে কি কোনও প্রভাব পড়বে?

ফিরহাদ হাকিম:  বোকা বিজেপি এটা জানে না যে চালাকি করে কোনও মহৎ কাজ সম্পন্ন হয় না। তৃণমূলের ভোটার ভেবে ২৭ লক্ষের নাম বাদ দিতে গিয়ে মতুয়া গড়ে হাত দিয়েছে বিজেপি। তার প্রভাব পড়বে মতুয়াদের উপর। যাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে, পরিবারের একজন করে নাম বাদ দেওয়া হলেও তাদের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কারণ, যাকে বাদ দেওয়া হয়েছে সে কারও ভাই, বোন বা জ্যাঠা কিংবা চাচা। তাদের মনেও তো ক্ষোভ জন্মাবে। এরা বিজেপিকে ভোট দেবে না। দ্বিতীয় হচ্ছে আত্মসম্মান, ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও গরু, ছাগলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটে মানুষ সেটার বদলা নেবে। বিজেপি হালে পানি পাবে না। বিজেপির দালাল হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত বাজে লোক, সরকারি টাকায় বেতন হয় অথচ তার বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোটা বিজেপি ওপরে চলে গিয়েছে। 

নির্বাচন কমিশন যে বদলির পর বদলি করছে সেটা নিয়ে কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম:  নির্বাচন কমিশন এখন ঝালমুড়ি কমিশন হয়ে গেছে। অফিসারদের ঢেলে ঝালমুড়ির মতো ঘোরাছে। নির্বাচন কমিশন এখন তুঘলকি কমিশন হয়ে গিয়েছে। যেভাবে একের পর এক বদলি করা হচ্ছে তাতে লাভটা কি হচ্ছে?  এর ফলে উন্নয়ন হচ্ছে না, সবকিছু বন্ধ হয়ে রয়েছে। উলটে বাংলার ক্ষতি হচ্ছে। এর দায় পুরোপুরি বিজেপিকে নিতে হবে। 

২৭ লক্ষ লোক যে বাদ গেল এর কি প্রভাব পড়তে পারে?

ফিরহাদ হাকিম: ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ বিজেপিকে ভোট না দিয়ে তৃণমূলকে ভোট দেবে। ২ কোটি মানে অতিরিক্ত ভোট যেটা। তৃণমূল তো নির্দিষ্ট একটা ভোট পায়। ৬ কোটির মধ্যে ৪ কোটি তৃণমূল পায় ২ কোটি ওরা পায়। সেটাও তৃণমূল পাবে। ওরা ২৭ লক্ষ কেটেছে কিন্তু ২ কোটি ভোট হারিয়েছে। 

এবার প্রচুর সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের সময় থাকবে। সেটা নিয়ে আপনি কি বলবেন?

ফিরহাদ হাকিম: এতে আমাদের কিছু এসে যায় না। পারলে রাষ্ট্রসংঘের বাহিনীও নিয়ে আসুক। আমেরিকা মোদিজির পিতা হয়। ইসরাইলকে তিনি বলেছেন ফাদার ল্যান্ড। ওখান থেকেও বাহিনী নিয়ে আসুক। অন্তত ইরানের ওপর অত্যাচার তো কমবে। 

ভোট নিয়ে আপনার অনুমান কি? পশ্চিমবঙ্গে যে দুই পর্যায়ে ভোট হতে চলেছে তাতে গ্রাম বাংলায় কি হবে?

ফিরহাদ হাকিম: তৃণমূল ২৫০ আসন নিয়ে আবার ক্ষময়তায় আসতে চলেছে, এটা আমার অনুমান। 

যোগী আদিত্যনাথের সভায় তাঁর সমর্থকরা বেশকিছু বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।

ফিরহাদ হাকিম: এটা গরীব মানুষের কাছে থ্রেট। আমরা তো বলছি বিজেপি সব বসতি, কলোনি উঠিয়ে দেবে। যদি বন্দর এলাকায় আসে তাহলে গরীব মানুষদের বুলডোজার দিয়ে তুলে দিয়ে জমি আদানিকে দিয়ে দেবে। বাংলার মানুষ যারা গণতন্ত্রপ্রেমী, ভোটের লাইনে যারা আত্মসম্মান হারিয়েছে তারা সবাই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেবে।