কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তল্লাশি এবং নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজে উপচে পড়ল ভিড়। অধিকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম এই স্থানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঈদের দিনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
আরও পড়ুন:
ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, সকাল থেকেই মসজিদ চত্বরে মুসল্লিদের ঢল নামে। তবে নামাজের সময় জুড়ে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ছিল। বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হয় এবং কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করার ঘটনাও ঘটে।
আরও পড়ুন:
গত বছর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এই প্রথম ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হলো আল-আকসায়। এর আগে ঈদুল ফিতরের সময় মসজিদে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বহু মুসল্লিকে বাইরে খোলা জায়গা ও সড়কে নামাজ আদায় করতে হয়েছিল।
ঈদের দিন ভোর থেকেই জেরুজালেমের পুরনো শহর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বাব আল-আসবাত বা ‘লায়ন্স গেট’ দিয়ে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে জেরুজালেম এবং ১৯৪৮ সালের সীমারেখার ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিনিদের মতে, মসজিদের ইসলামী পরিচয় ও ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষার অংশ হিসেবেই এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি মহলের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে ইসরাইলি উগ্রপন্থীরা আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং সেখানে ইহুদি উপাসনালয় নির্মাণের দাবি তোলে। এসব কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর নীরব সমর্থন রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন:
এদিকে ঈদের দিন আল-আকসার বাব হুত্তা প্রবেশপথের কাছে এক ফিলিস্তিনি তরুণীকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাকে মারধর করে হিজাব খুলে নেওয়ার পর আটক করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিক সাইফ আল-কাওয়াসমি-কে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দিয়ে এক সপ্তাহের জন্য আল-আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইসলামিক ওয়াকফের কর্মী ফিরাস আল-দিবসকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর-এর বিভিন্ন মসজিদ ও খোলা প্রাঙ্গণেও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়। খুতবায় গাজা ও ফিলিস্তিনিদের চলমান সংকট, যুদ্ধ এবং মানবিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
আরও পড়ুন:
ঈদের দিনও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ইসরাইলি বাহিনী। বাড়ি তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযানের পাশাপাশি হেবরন সংলগ্ন বানি নাঈম এলাকায় অভিযানের সময় রাবার বুলেটে আহত হয় ১৩ বছরের এক শিশু। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন:
চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহেও আল-আকসায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।