পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স বা দমকলের জন্য আর আলাদা আলাদা নম্বর মনে রাখতে হবে না। দেশের যে কোনও প্রান্তে জরুরি পরিষেবা পেতে একটিমাত্র হেল্পলাইন নম্বর ১১২-এর আওতায় আনার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই সমন্বিত জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

ভারতে ট্রমা কেয়ার পরিকাঠামো এবং পথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী ও বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

আদালত জানায়, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও উদ্ধার পরিষেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং তা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘জীবনের অধিকার’-এর অন্তর্ভুক্ত।
১১২ হল দেশের সমন্বিত জরুরি পরিষেবা নম্বর বা ইন্টিগ্রেটেড ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম। যুক্তরাষ্ট্রের ৯১১ পরিষেবার আদলে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। এর মাধ্যমে একটি ফোন কলেই পুলিশ, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশের কিছু রাজ্যে ১১২ পরিষেবা চালু থাকলেও বহু জায়গায় এখনও ১০০, ১০৮-সহ পৃথক জরুরি নম্বর ব্যবহৃত হয়। আদালতের মতে, এই বিভক্ত ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনা বা সংকটের সময়ে দ্রুত সাহায্য পেতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা শুরু করার জন্য গোটা দেশে একক নম্বর চালু করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে রাজ্যগুলিকে।

প্রতিটি রাজ্যে নোডাল অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসা সাধারণ নাগরিকদের যাতে কোনও ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া দেশের সব অ্যাম্বুল্যান্সে জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই তথ্য ১১২ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যাতে দ্রুততম সময়ে জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।
দুর্ঘটনায় আহতদের ক্যাশলেস চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পও দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরে চিকিৎসা শুরু করার ক্ষেত্রে অর্থ যেন কোনও বাধা না হয়। ১১২ নম্বরে ফোন করলে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যাবে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পুলিশ যাচাইও সম্পন্ন হবে।

শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হলে দেশের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।