পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভাইরাল একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভিডিও সামনে আসতেই কঠোর ভাষায় তাঁকে আক্রমণ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ ধরনের কাজকে তিনি নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন:
এনিয়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে এদিন উপস্থিত ছিলেন, কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাস।
তাঁরা স্পষ্ট দাবি করেন, বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে 'বি-টিম' নামিয়ে রাজ্যে মেরুকরণের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে বিজেপি। সংখ্যালঘু সমাজকে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ্যে আসতেই এদিন স্বভাবতই সবচেয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যে ভাইরাল ভিডিওটি এদিন প্রকাশ করা হয়, সেখানে হুমায়ুন কবির নামে এক নেতাকে মুসলিম ভোট ভাগ করা এবং বাবরী মসজিদের নাম ব্যবহার করে সংখ্যালঘু সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগানোর কথা বলতে শোনা যায়। এই প্রসঙ্গ টেনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফিরহাদ। মুসলিম ধর্মাবেগ নিয়ে এই বিকিকিনিকে 'সমাজের অত্যন্ত লজ্জা' আখ্যা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের কাছে সজাগ হওয়ার আবেদন জানান।আরও পড়ুন:
ফিরহাদ হাকিম তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ভোট কেনাবেচা চলছে।
হুমায়ুন কবির বলছেন বাবরী মসজিদের নাম নিলে সেন্টিমেন্ট তৈরি হবে। আমরা যারা মুসলমান সমাজের মানুষ, আমরা কি গরু-ছাগল? আমরা কি বুদ্ধিহীন? আমাদের সেন্টিমেন্ট কি বিক্রি করার জায়গা?" হুমায়ুন কবির এবং হায়দরাবাদের এআইএমআইএম-কে 'বিজেপির দালাল' বলে তোপ দেগে ফিরহাদের আরও সংযোজন, "বিজেপি যখন সরাসরি পেরে উঠছে না, তখন পেছন দিক দিয়ে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে। এই বেইমানদের চিনে রাখার সময় এসেছে। পিএমও বসে এখানে কেনাবেচার তদারকি করছে আর হায়দরাবাদের ওই দলটি আসলে বিজেপির ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে কাজ করে বাংলার মুসলিম সমাজের সম্মান বিক্রি করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।"আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি কথোপকথনের ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে নিজের মুখেই বিভিন্ন রাজনৈতিক যোগাযোগের কথা বলছেন হুমায়ুন কবীর। ওই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, যেকোনও পরিস্থিতিতেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করতে চান। সেই উদ্দেশ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে বলে কথোপকথনে উল্লেখ রয়েছে। ভিডিওতে আরও শোনা যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নাকি তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হুমায়ুন—এমনটাই শোনা যাচ্ছে ওই কথোপকথনে।