মধ্যপ্রাচ্যের টানটান উত্তেজনার আবহে বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি নিয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। খুব শিগগিরই সেই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই চুক্তির অংশ হিসেবেই খুলে দেওয়া হতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি।

শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার অধিকাংশই ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির অপেক্ষা। তাঁর কথায়, “চুক্তির শেষ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই সব জানানো হবে।”

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি এই আলোচনাকে “শান্তি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক” তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।

যদিও সম্ভাব্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবু ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হবে— ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “পরস্পরবিরোধী অবস্থান” নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বাঘাই জানান, একটি ১৪ দফা কাঠামোর ভিত্তিতে শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরি হচ্ছে এবং বর্তমানে সেই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

তাঁর মতে, আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক এবং শেষ পর্যন্ত স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছনো সম্ভব হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাত শুরু হয়। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলেও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই যুদ্ধবিরতির পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।