মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ পবিত্র হজ। আগামী ২৫ মে থেকে সৌদি আরবে শুরু হচ্ছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। যুদ্ধ, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লক্ষেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মক্কায় পৌঁছে গিয়েছেন।
ইতিহাস বলছে, গত ১৪ শতাব্দীতে যুদ্ধ, মহামারি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হজ পুরোপুরি বাতিল বা সীমিত করার ঘটনা ঘটেছে হাতে গোনা কয়েকবার। সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়।
তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, এমন এক সময় হজের আয়োজন করছে সৌদি আরব, যখন গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও সংঘাতের আবহে অস্থির।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রা নেয়। পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই উত্তেজনার আঁচ পৌঁছে যায় উপসাগরীয় অঞ্চলেও। বর্তমানে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি সৌদি প্রশাসন দাবি করেছে, ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ছোড়া তিনটি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
এমন নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেও হজকে ঘিরে বিশ্ব মুসলিমের আবেগে কোনও ভাটা পড়েনি। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ইরানি হাজিদের সৌদি আরবে প্রবেশ। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে ইরানি নাগরিকদের হজে অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ ছিল। পরে চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলায়। এবার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানি হাজিদের আগমনকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুল জনসমাগম সামলানো এবং তীব্র গরমে হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এক স্থানে ১৫ লক্ষেরও বেশি মানুষের সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই কারণেই এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। ‘লাগেজ ছাড়া হজ’ নামে চালু হওয়া বিশেষ ব্যবস্থায় হাজিদের মালপত্র সরাসরি তাঁদের আবাসস্থলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিমানবন্দর ও যাতায়াতের পথে ভিড় কমানো যায়।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধের আতঙ্ক, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যেও ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বিশ্ব মুসলিমের আগ্রহ ও আবেগ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী ২৯ মে পর্যন্ত চলা এই পবিত্র হজে বিশ্ব শান্তি, স্থিতি ও মানবকল্যাণের প্রার্থনায় মুখর থাকবে মক্কা।