চলমান যুদ্ধ, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার আবহের মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ-এ ঈদের নামাজ আদায় করতে জড়ো হলেন হাজারো মুসল্লি। বুধবার সকাল থেকেই মসজিদ চত্বরজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেন ফিলিস্তিনিরা।
আরও পড়ুন:
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ঈদুল আজহার চার দিনের ছুটির প্রথম দিন সকাল থেকেই আল-আকসা মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপস্থিত মুসল্লিরা।
আরও পড়ুন:
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা মূলত হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। মহান আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার প্রস্তুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মুসলমানরা এই দিনটি পালন করেন। এদিন সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন এবং সেই মাংস দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।
তবে এবারের ঈদ এমন এক সময় উদযাপিত হচ্ছে, যখন গাজা পরিস্থিতি এখনও গভীর সংকটময়। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও তা বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।
বিশেষ করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।আরও পড়ুন:
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও ইসরায়েলি হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ এই সংঘাতে গাজার বিপুল বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আল-আকসা মসজিদ-এ ঈদের জামাতে মুসল্লিদের বিপুল উপস্থিতি ফিলিস্তিনি জনগণের ধর্মীয় চেতনা, ধৈর্য ও অদম্য মনোবলেরই প্রতীক হয়ে উঠেছে।