পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আফ্রিকার একাধিক দেশে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভারতে জারি হল কড়া সতর্কতা। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির সময় যেমন কড়া নজরদারি চালানো হয়েছিল, অনেকটা সেই ধাঁচেই এবার ইবোলা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেরালার কোচি বিমানবন্দরে নতুন নিয়ম পুরোপুরি চালু হয়েছে।

আফ্রিকার কঙ্গো, উগান্ডা এবং আশপাশের কয়েকটি দেশে ইবোলা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ওই সব অঞ্চল থেকে সরাসরি বা অন্য দেশের মাধ্যমে ভারতে আসা যাত্রী ও বিমানকর্মীদের জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে। গত একুশ দিনের মধ্যে কেউ ইবোলা আক্রান্ত দেশে গিয়েছেন কি না, অথবা জ্বর, গলা ব্যথা, দুর্বলতা, পেশিতে যন্ত্রণা, বমি, পেটের গোলমাল, চামড়ায় ফুসকুড়ি কিংবা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না, তা বাধ্যতামূলকভাবে সেলফ ডিক্লেয়ারেশন ফর্মে জানাতে হবে। দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার পাশাপাশি বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকেও এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানে যাত্রীদের উদ্দেশে সতর্কতামূলক ঘোষণা করতে হবে। কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা গেলে তাঁকে বিমানের একেবারে পিছনের দিকে আলাদা আসনে বসাতে হবে।
সম্ভব হলে তাঁর চারপাশের কয়েকটি সারিও ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। সেই যাত্রীর আশপাশে থাকা অন্য যাত্রীদেরও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি উড়ানে একজন বিমানকর্মীকে শুধুমাত্র এই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হবে। আক্রান্ত সন্দেহে থাকা যাত্রীর ব্যবহৃত শৌচালয় অন্যদের ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। বিমানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পোশাক,  মাস্ক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনও যাত্রীর মধ্যে ইবোলার লক্ষণ ধরা পড়লে বিমান অবতরণের পর সেটিকে আলাদা নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হবে।

কেরালার কোচি বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিদেশফেরত যাত্রীদের ভ্রমণ ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের একাধিক হাসপাতালে বিশেষ আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কারণ দেশের মধ্যে কেরালা থেকেই সবচেয়ে বেশি শ্রমিক বিদেশে কাজে যান।