সেখ কুতুবুদ্দিনঃ রাজ্যবাসীকে বলবো আইন মেনে কুরবানী করুন। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির কাছে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে কুরবানি করা হোক। শুক্রবার রাজ্যের মুসলিম সমাজের  উদ্দেশ্যে এ কথা জানিয়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি। এদিন  রাজ্যের বর্তমান বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি। কলকাতা হাইকোর্টের ২০ জনের বেশি ‘সিনিয়র’ ও ‘লার্ণার’ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুবের কলম-এর সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান, মুফতি আবদুস সামাদ, জিল্লুর রহমান আরিফ প্রমু'।

 বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে আগের নির্দেশিকা মেনে পশুজবাই বা কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, কুরবানীর দিন যাতে  অশান্তি না হয়, সেদিকে নজর দিকে হবে।  মুসলিম সমাজে বছরের একটা দিন কুরবানি হয়। কুরবানী-ঈদ ভালোভাবে যাতে পালন হয়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। ইসলাম ধর্মাবলম্বী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলবো, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে গিয়ে লি'তভাবে অনুমতি চেয়ে নেবেন। আইন মেনে যাতে কুরবানি হয়, তার জন্য পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলবো, বছরে দুটি ঈদ, সেদিকে লক্ষ্য রাখা। কারণ, আগে এই আইন মানুষ জানতো না। এ'ন আইন জানছে।
আমরা আশা করবো, শান্তিপূর্ণভাবেই যেন কুরবানি পালন করতে পারি।

  এছাড়া এদিন ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও আইনি সহায়তার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বন্দেমাতরম গান স্কুলের সঙ্গে  সরকারি ও সরকার স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতেও গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইউনিফর্ম সিভিল কোড, মসজিদে আযান,  অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আগামী ৮ জুন আদালত চালু হবে। তারপর থেকে এইগুলি নিয়ে আইনজীবী সহায়তা প্রদান করবে।

এর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাভোকেটদের নিয়ে ‘আইনি সহায়তা’ অর্থাৎ ‘লিগ্যাল সেল’ গঠন করছে পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামায়ে হি¨। 

উল্লেখ্য,  ঈদ-উল-আযহা অর্থাৎ কুরবানীতে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পশু কুরবানী করতে হলে সার্টিফিকেট নিতে হবে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং পুরসভার কাছ থেকে। শর্ত না মানা হলে ১০০০ টাকা জরিমানা সহ ৬ মাসের জেল হতে পারে। তবে আইনজীবীদের অনেকের প্রশ্ন, যেভাবে আইন করা হয়েছে, বর্তমানে সেই পরিকাঠামো নেই। তাই এই আইন কার্যকর নিয়ে রাজ্য সরকারের বিবেচনা করা কী প্রয়োজন নয়। একের পর এক হয়রানি করা হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়কে, এই নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন উপস্থিত বিশিষ্ট আইনজীবীরা আইনজীবীদেরও বক্তব্য,  কুরবানীতে পশুজবাই-সহ একাধিক ইস্যু সামনে এনে মুসলিমদের কষ্টের মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে। এতে শুধু মুসলিমরাই নয়, অমুসলিমরাও আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁরা পশু বিক্রি করতে পারছেন না। পুরো বাংলায় ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।