মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দিল্লি সফরেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বঙ্গভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির নাম বদলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করা হয়েছিল। আর সেই কারণেই বাংলায় কেন্দ্রের বরাদ্দ আটকে গিয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

শুভেন্দুর কথায়, “শুধু ভাষণ দিলে হবে না, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনার নাম বদলে খাদ্যসাথী করলে কেন্দ্র টাকা দেবে কী করে?

প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার নাম পরিবর্তন করে বাংলার গ্রাম সড়ক লিখলে কেন্দ্র কেন অর্থ দেবে?” যদিও কারও নাম সরাসরি করেননি তিনি, রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁর নিশানা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় একাধিক প্রকল্প ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, “বিশ্বকর্মা যোজনা, উজালা থ্রি-র মতো প্রকল্পও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই কারণেই বাংলার মানুষ সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয়েও আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সারা দেশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা চালু হলেও বাংলায় তা কার্যকর করা হয়নি। জনগণনার কাজও শুরু করা হয়নি। বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসেই সেই কাজ শুরু করেছি।

দিল্লি সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
এদিন রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়েও ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, খুব দ্রুত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হবে। রাজভবনে তালিকা পাঠানোর পর মনোনীত মন্ত্রীদের শপথের জন্য ডাকা হবে এবং সেই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারও করা হবে বলে জানান তিনি।