পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ‘মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। এই রায়ের পর প্রথম শুক্রবার যাতে ধার জেলায় কোনওরকম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয়, তার জন্য গোটা এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। গত শুক্রবার পর্যন্ত যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে জুমার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হতো। আদালতের নির্দেশে এখন সেখানে শুধুই হিন্দু সম্প্রদায়ের পুজোর রাস্তা পরিষ্কার হয়েছে।
জানা যায়, হাইকোর্টের রায়ের পর প্রথম শুক্রবারে কিছু সংগঠন সেখানে জোরপূর্বক জুম্মার নামাজ পড়ার চেষ্টা করতে পারে— এমন আশঙ্কার থেকেই ধার জেলার পুলিশ সুপার শচীন শর্মার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্যে করে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে পুলিশ সুপারকে।আরও পড়ুন:
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি পুলিশ জিপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় জনসমক্ষে কড়া বার্তা দিচ্ছেন পুলিশ সুপার শচীন শর্মা। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যার সাহস আছে বা যিনি মনে করেন যে তিনি আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন, তিনি একবার চেষ্টা করে দেখুন।
আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা হবে। সেই সাথে আদালত অবমাননা করে বা আদালতের রায়ের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনওরকম গুজব না ছড়ায়, সেই বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপারের ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগানের সাথে উপস্থিত জনতাও গলা মেলায়।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ ভোজশালা মামলায় হিন্দুদের পক্ষে রায় দান করে। আদালত ধার জেলার এই বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করে এবং সেখানে হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি দেয়। এর আগে, ২০০৩ সাল থেকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI)-র একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজো এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। হিন্দু সংগঠনগুলি এএসআই-এর সেই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। হাইকোর্ট তার রায়ে আরও জানিয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায় চাইলে জেলায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমির দাবিতে মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারে। এদিকে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবারই দেশের শীর্ষ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মুসলিম পক্ষ। তাদের দাবি, এই নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক।