পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দেশে অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে এবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বর্ডার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বার্ষিক স্মারক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান,  আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার।

এত দীর্ঘ সীমান্তে সর্বত্র কেবলমাত্র জওয়ান মোতায়েন করে নজরদারি চালানো কঠিন। সেই কারণেই এবার প্রযুক্তির উপর ভরসা বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। সীমান্ত এলাকায় ড্রোন,  অত্যাধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং নানা ধরনের নজরদারি যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গোয়েন্দা যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অমিত শাহ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্মার্ট বর্ডারের কাজ শুরু হবে। তার ফলে সীমান্তগুলিকে দুর্ভেদ্য করে তোলা সম্ভব হবে। এছাড়াও, জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে ব্যর্থ চেষ্টা চলছে, তাতেও লাগাম টানা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান,  ত্রিপুরা,  পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম সরকার অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রের অবস্থানের সঙ্গে সহমত জানিয়েছে।

বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি সহযোগিতা করছে বলে দাবি করেন তিনি। বাংলার সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কাঁটাতার দেওয়া নিয়ে জমি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। তবে বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। এর মধ্যেই সম্প্রতি রাজ্যে নতুন পুশব্যাক  নীতি কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী,  বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের পুলিশ সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে। পরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তাঁদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে।