পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ দিনের প্রচারে এসে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পাহাড়ে প্রচারে গিয়ে ফের বঙ্গভঙ্গের উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন তিনি। আজই প্রচারের শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন শাহ।
আরও পড়ুন:
দিনটির সূচনা করেন কার্শিয়াং বিধানসভা এলাকার সুকনা থেকে। সেখানে দলীয় প্রার্থী সোনম লামার সমর্থনে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোর্খা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে ৬ মে থেকেই এমন সমাধান কার্যকর হবে, যাতে প্রতিটি গোর্খা পরিবারের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে ওঠে। পাশাপাশি তিনি জানান, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলা নিষ্পত্তি করা হবে।আরও পড়ুন:
এই বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, গোর্খাদের সন্তুষ্টির আশ্বাস কি পরোক্ষে পৃথক গোর্খাল্যান্ড দাবিকেই উসকে দেওয়ার চেষ্টা? উল্লেখ্য, দার্জিলিং ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় বহুদিন ধরেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি জোরালো।
কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় অসন্তোষ রয়ে গিয়েছে। অতীতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিজেপির পাশে দাঁড়ালেও পরে সেই অবস্থান বদলায়। ফলে পাহাড়ের রাজনীতিতে এই ইস্যু বরাবরই স্পর্শকাতর। নির্বাচন এলেই এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসে, এবং বিভিন্ন পাহাড়ি দলের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট হয়।আরও পড়ুন:
এবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই পুরনো ইস্যুকেই আবার সামনে এনে প্রচারে জোর দিলেন শাহ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরদিনই সরকার গঠন করে দ্রুত সমস্যার সমাধানে নামার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, এমন স্থায়ী সমাধান খোঁজা হবে যাতে ভবিষ্যতে গোর্খাদের আর আন্দোলনের পথে নামতে না হয়।