পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
আরও পড়ুন:
প্রথম শুনানির সময় সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট হয়ে গিয়েছিল মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বিশ্বাসের। তিনি নদিয়া জেলার রানাঘাট শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ৩৪ বছর একটি হাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার অবসর গ্রহণ করেন। যখন ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ হয়ে যায়, তখন তিনি ছিলেন মক্কায়, ওমরা করছেন। তার ছেলেরা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা তাদের আব্বাকে জানায় নি।
পরে তারা অনলাইনে ট্রাইবুনালে আপিল করে। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। নাম ডিলিট হওয়ার বিষয়টি তিনি রানাঘাটের মহকুমা শাসক মুহাম্মদ সুবুর খানকে জানান। তার আবেদনের হার্ড কপি তিনি মহকুমা শাসকের হাতে তুলে দেন।মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বিশ্বাস বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। বিরাট ক্ষোভ ছিল তার।
অবশেষে গত শুক্রবার জোকার ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জাতীয় জল ও স্যানিটেশন ইনস্টিটিউটে থেকে তার কাছে ফোন করে তাকে প্যান কার্ডের ছবি পাঠাতে বলা হয়। এ পর ঘন্টা দুয়েক পরে তার মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। তাতে জানানো হয় তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এই প্রতিবেদকে তিনি বলেন, আমি দ্বিতীয়বার ভারতীয় নাগরিক হলাম।
এসআইআর বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ কোন আবেদনকারী বা তাঁদের আইনজীবীদের কারোরই ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম লেখাতে চাইলে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়ে কোন স্পষ্ট ধারণা অনেকের নেই ।
কিন্তু এখনও নাম ডিলিট হওয়া অনেকের কাছে এখন পর্যন্ত শুনানির বিষয়ে কোন যোগাযোগ করা হয়নি। রানাঘাটের মাওলানা মোশারফ বলেন , "আমি আমার বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তিনিও জানেন না। তালিকা থেকে বাদ পড়া বেশ কয়েকজন প্রতিবেশীও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন যে শুনানির জন্য আমাদের ডাকা হচ্ছে কি না। আমরা জানি না আমাদের কথা শোনা হবে কি না, নাকি আমাদের ভাগ্য সেই একই অযৌক্তিক যুক্তির ওপর নির্ভর করবে, যার কারণে প্রথমত আমাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।"