পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে দেশে জ্বালানির দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে আমজনতাকে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে বাঁচাতে দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি জাতীয় সম্মেলন ডাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানালেন ‘মাক্কাল নীতি মইয়াম’ প্রধান তথা রাজ্যসভার সাংসদ কমল হাসান। সাধারণ মানুষের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমাতে এবং গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারকেই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।

আমজনতাকে স্বস্তি দিতে মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ অবিলম্বে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কমল হাসান। প্রথমত, পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর কমাতে হবে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে।

দ্বিতীয়ত, ট্রেন, মেট্রো এবং সরকারি বাসের ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হন। প্রধানমন্ত্রীর আগামী এক বছর দেশবাসীকে শক্তি সংরক্ষণের যে বার্তা দিয়েছেন, তাকে সমর্থন জানিয়ে কমল বলেন, এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা প্রয়োজন। তিনি যোগ করেন, “আজ আমাদের সাশ্রয় করা শক্তির প্রতিটি ইউনিট আগামীকালের ভারতকে শক্তিশালী করবে। তেলের প্রতিটি ফোঁটা সাশ্রয় দেশের দরিদ্রতম মানুষকে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে রক্ষা করবে। আমরা যদি একসঙ্গে এই সংকটের মুখোমুখি হই, তবে ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

কেবল রাজনীতি বা প্রশাসনিক ক্ষেত্রই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার জেরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প বা সিনেমা জগতকেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন কমল হাসান। সিনেমার ‘অযথা খরচ’ এবং ‘বিলাসিতা’ কমিয়ে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তিনি ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বিদেশি লোকেশনে শুটিংয়ের মোহ ত্যাগ করে ভারতের ভেতরেই কাজ করার পক্ষে সওয়াল তুলে কমল হাসান রসিকতার সুরে বলেন, “সব প্রেমের গল্প কেন কেবল প্যারিসেই ফুটতে হবে, আর কেনই বা প্রতিটা হানিমুন সুইজারল্যান্ডে গিয়ে শেষ হবে? সৌভাগ্যবশত, রোম্যান্স করার জন্য কোনও বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন পড়ে না। ভারতীয় সিনেমা এবং ভারতীয়দের নিজেদের ওপর এবং আমাদের সুন্দর দেশের ওপর আরেকটু আত্মবিশ্বাস রাখা উচিত।” কমল হাসানের মতে, এই বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ে চলচ্চিত্র জগত থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ নাগরিক— সকলকে একজোট হয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।