পবিত্র হজকে ঘিরে সৌদি আরবে জারি করা হল চরম আবহাওয়ার সতর্কতা। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এবারের হজ চলাকালীন বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম, ধূলিঝড় এবং বালুবাহী ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব দেখা যেতে পারে। ফলে হজযাত্রীদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, নজরান, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল, নর্দার্ন বর্ডারস, আল-জৌফ এবং তাবুকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধূলিঝড় ও বালুবাহী বাতাস আঘাত হানতে পারে।

একইসঙ্গে জাজান, আসির, আল-বাহা এবং মক্কার পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনা-সহ পবিত্র স্থানগুলোর সংযোগকারী সড়কগুলোতে আবহাওয়া আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও দিনের বেলায় প্রবল তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলতে পারে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই লক্ষ লক্ষ হজযাত্রীর যাতায়াত শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের উদ্বেগও বাড়ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মক্কায় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

মদিনায় পারদ উঠতে পারে ৪৪ ডিগ্রিতে। পাশাপাশি আর্দ্রতার মাত্রাও ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। খোলা এলাকায় ধূলিবাহী ঝোড়ো হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি প্রশাসন হজযাত্রীদের জন্য একাধিক নির্দেশিকাও জারি করেছে।
যাত্রার আগে যানবাহনের অবস্থা পরীক্ষা করা, নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং শরীরে পানির ঘাটতি এড়াতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ১৬ লক্ষ হজযাত্রীর মক্কায় সমবেত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে তাই আবহাওয়া, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে সৌদি প্রশাসন।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা মক্কা ও আশপাশের পবিত্র স্থানগুলিতে সম্পন্ন হলেও, বহু হজযাত্রী সফরের অংশ হিসেবে ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর মদিনাতেও যান। যদিও মদিনা সফর হজের বাধ্যতামূলক অংশ নয়, তবুও ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে অধিকাংশ যাত্রীই সেখানে কিছু সময় কাটাতে আগ্রহী হন।