দলের কঠিন সময়েও দল ছাড়ার কথা ভাবেননি। বরং বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো দিনের সৈনিক। সমাজমাধ্যমে পুরনো স্মৃতি তুলে ধরে দলনেত্রীর প্রতি নিজের আনুগত্যও প্রকাশ করেছেন একাধিকবার। সেই মদন মিত্রকেই এবার বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে।

এতদিন বারাকপুর-দমদম মিলিয়ে একটি সাংগঠনিক জেলা থাকলেও এবার আলাদা করে দমদম সাংগঠনিক জেলা গঠন করেছে তৃণমূল। আর সেই নতুন জেলার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দলের প্রবীণ নেতার হাতে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত কারণ। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার বহু এলাকায় তৃণমূল ধাক্কা খেলেও কামারহাটি কেন্দ্র ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন মদন মিত্র। বিজেপির শক্তিশালী উত্থানের মধ্যেও নিজের কেন্দ্র অক্ষত রাখায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

একসময় রাজ্যের পরিবহণ ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন মদন। ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় কামারহাটি থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে পরাজিত হন। সেই সময় সারদা মামলায় জেল হেফাজতেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তবে রাজনৈতিকভাবে হার মানেননি।
২০২১ সালে আবার কামারহাটি থেকে জয়ী হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। এবারও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের কেন্দ্র ধরে রেখে তিনি কার্যত দলের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন।
দলের অন্দরের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব কিছুটা কমে গেলেও মদনের জনসংযোগ এবং তৃণমূল স্তরে তাঁর প্রভাব এখনও অটুট। বিশেষ করে কামারহাটি ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার কাজে লাগাতে চাইছে দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও মজবুত করতেই এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেছে তৃণমূল। দমদম ও বারাকপুর— দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বলয়কে আলাদা করে নজরদারিতে রাখতে চাইছে দল। আর সেই দায়িত্ব সামলাতে অভিজ্ঞ ও লড়াকু মুখ হিসেবেই মদন মিত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে।