বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের তিন সপ্তাহ পর ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন কার্যত নাম না করেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, “যিনি এখন রাজশাসনের চেয়ারে বসে আছেন, তাঁর ওই চেয়ারে বসারই কথা নয়।” 
 তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক উপায়ে নয়, পরিকল্পিত ভোটলুট ও কারচুপির মাধ্যমেই বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি।

সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত দীর্ঘ বার্তায় মমতা বলেন, “৪ তারিখে গণনা হয়েছে, আজ ২৪ তারিখ। এই ২০ দিন মুখ বুজে সহ্য করেছি। শুধু আমি নই, বাংলার মানুষ ও তৃণমূলের কর্মীরাও সহ্য করছেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

” তাঁর দাবি, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগাতার হামলা চলছে, বহু কাউন্সিলরকে জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে এবং দলের হাজার হাজার কার্যালয় দখল করা হয়েছে।

ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। মমতার কথায়, “ভবানীপুরে কীভাবে জিতেছেন, সেটা আদালতে বলব। সাহস থাকলে ফরেনসিক পরীক্ষা করান। ইভিএমের রিপোর্ট চাই।

” তিনি দাবি করেন, ভোট গণনার সময় তিনি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু পরে ফলাফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এ রাজ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি “ডেটা হ্যাকিং”, সিআরপিএফের পোশাক পরে বহিরাগতদের কাউন্টিং হলে ঢোকার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে মিডিয়ায় আগেভাগে ফল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বুলডোজারের রাজনীতি করছে, পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাজকর্মে বাধা দিচ্ছে এবং পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। মমতা বলেন, “আমরা কখনও উর্দিধারীদের দিয়ে এই ধরনের কাজ করাইনি। আজ মিটিং করতে গেলেও অনুমতি মিলছে না।”

এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের নাম বদলে নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরছে বর্তমান সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ ঘোষণা এবং অন্যান্য প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমাদের করে যাওয়া কাজগুলোকেই এখন নতুন নামে চালানো হচ্ছে।”

সবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “যেখানে হারার কথা ছিল সেখানে জেতানো হয়েছে, আর যেখানে জেতার কথা ছিল সেখানে হারানো হয়েছে। তা না হলে তৃণমূল ২২০-২৩০টি আসন পেত।”