পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ফাঁসির সাজা মাথায় নিয়েই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথা জানালেও, সেই সুযোগ তিনি পাবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে পা রাখা মাত্রই হাসিনাকে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে জামিন বা অন্য কোনও আইনি ছাড় পাওয়ার নজির নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

মুখ্য সরকারি আইনজীবী আরও জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের আশ্রয়ে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফিরে স্বাধীনভাবে আত্মসমর্পণের কোনও আইনি সুযোগ নেই। তাঁকে ‘দণ্ডিত’ আসামি হিসেবেই গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরাতে হবে। এর জন্য ভারত সরকারকে প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে অথবা পুশব্যাক করে তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি নতুন করে কোনও সুযোগ পাবেন না, তাঁকে সরাসরি কারাবাসে যেতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু তিনি নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ায় সেই রায় এখনও কার্যকর করা যায়নি। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানান যে, তিনি মৃত্যু পরোয়ানাকে ভয় পান না এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত। তাঁর এই মন্তব্যের পরই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। বিএনপি, জামাত-ই-ইসলামি এবং এনসিপি-র মতো দলগুলি একযোগে দাবি তুলেছে যে, দেশে ফিরলেই হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। ইতিমধ্যেই বর্তমান তারেক রহমান সরকার হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে, তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঠিক কবে ও কীভাবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।