পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অবশেষে তাঁর দেশে ফেরার স্পষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করলেন। ‘এনডিটিভি’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "চলতি বছরের শেষের দিকেই" তিনি নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে যাবেন। তবে তাঁর এই ঘোষণাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান শাসক দল বিএনপি। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তাঁর দেশে ফেরা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়।
তাঁর কথায়, "আমার ফিরে আসাটা কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো এক বিশাল ও বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।"আরও পড়ুন:
ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান। তিনি একে "একটি বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ" বলে অভিহিত করেন।
নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে হাসিনা বলেন, "আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাই এবং প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। এক সময় গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।"আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর দল গ্রামীণ ও নগর—উভয় অঞ্চলেই আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দলটিকে স্রেফ একটি সাধারণ সংগঠন নয়, বরং একটি ‘রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমান জমানায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একে "বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত" বলে মন্তব্য করেছেন। একই সাথে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকার এবং তার আগের মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে "অগণতান্ত্রিক" বলে তীব্র আক্রমণ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র, আইনের শাসন বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অবশিষ্ট নেই এবং দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।