পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির জেরে খাদ্য, সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলারের জরুরি অর্থ সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই অর্থ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলিকে সহায়তা প্রদান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে ব্যয় করা হবে বলে বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, অনুমোদিত অর্থে দুটি পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং বাহ্যিক ধাক্কার প্রভাব কমানো।

মোট বরাদ্দের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। এই অর্থ দিয়ে আসন্ন ধান মরশুমের জন্য ৬ ছয় লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। বর্তমানে দেশের সারের চাহিদার অধিকাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি কৃষি খাতে পড়ছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের মূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক, নিম্নআয়ের পরিবার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এই পরিস্থিতিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংস্থাটির মতে, এই সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিতে ধান চাষের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।অন্যদিকে, অবশিষ্ট ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ব্যয় করা হবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানে। এর মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচি এবং জরুরি ব্যয় মেটানোর উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য পরিষেবা, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।