পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রথযাত্রার পুণ্য তিথিতে কলেজ স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিছু জেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বেশ কিছু জেলার অবস্থা একেবারেই বাংলাদেশের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীন ভারতের বুকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এহেন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি যথেষ্ট চিন্তিত বলে জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন দুর্গাপুজো গোটা রাজ্যে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হবে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিদানের অভিযোগ তুলে ধরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের মতো এই রাজ্যেও দিকে দিকে এমন ফরমান জারি করা হচ্ছে, যেখানে প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি থাকলেও শাঁখ বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে। এমনকি মৃতদেহ সৎকার করতে পারলেও ‘হরিবোল’ ধ্বনি দেওয়া যাবে না বলেও ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। পাশপাশি, মুর্শিদাবাদে প্রতিমাশিল্পী হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার কড়া নিন্দা করেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্য জানান, দুর্গাপুজোর সময় বাংলাদেশের মতো মুর্শিদাবাদেও ডিজে বাজিয়ে উপদ্রব করার যে অপসংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

এদিনের অনুষ্ঠান থেকে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার সচেতনভাবে দুর্গাপুজোকে নিছকই একটি ‘উৎসব’-এ পরিণত করেছিল, যার ফলে পুজোর মূল ধর্মীয় ভাবাবেগ ও আচার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, এটি নিছক আনন্দোৎসব নয়, এটি মায়ের আরাধনা বা পুজো। তাঁর মতে, মণ্ডপে যতই জাঁকজমকপূর্ণ থিম থাকুক না কেন, দেবী দুর্গার প্রতিমা না থাকলে দর্শনার্থীরা সেখানে পা রাখবেন না।