পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার রাতে মণিপুরের সেনাপতি জেলায় নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন এনএসসিএন-আইএম-এর সশস্ত্র ক্যাডারদের খোঁজে অসম রাইফেলস তল্লাশি অভিযান শুরু করতেই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ক্যাম্পে চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাসের সেল এবং শূন্যে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে সেনাপতি জেলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেনাপতির ওকলং-এ অবস্থিত এনএসসিএন (আইএম)-এর নির্দিষ্ট ক্যাম্প থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পশ্চিমে, মাকুইলংডি এলাকায় সশস্ত্র ক্যাডারদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল অসম রাইফেলস।

১৯৯৭ সাল থেকে এই নাগা গোষ্ঠীর সাথে কেন্দ্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি চললেও, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, ক্যাডাররা নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করছে, যা যুদ্ধবিরতির নিয়মাবলীর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই বিষয়ে আধিকারিকরা অফিশিয়াল ‘সিজফায়ার মনিটরিং গ্রুপ’-কেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে অসম রাইফেলসের জওয়ানরা মাকুইলংডি এবং ওকলং গ্রামের দিকে এগোতে গেলেই স্থানীয় বাসিন্দা ও মহিলারা তাঁদের পথ অবরোধ করেন। সেনা আধিকারিকরা জানান, চরম সংযম দেখিয়ে তাঁরা স্থানীয় প্রতিনিধিদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এই অভিযান শুধুমাত্র শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁরা গ্রামে প্রবেশ করবেন না।

সেনাবাহিনীর আশ্বাসের পরেও উত্তেজনা কমেনি, বরং রাত ৯টা নাগাদ তা চরমে পৌঁছায়।

সেনাপতি শহরে এক বিশাল জনতা সমবেত হয়ে স্থানীয় অসম রাইফেলস ক্যাম্পের দিকে মিছিল করে এগোতে থাকে। ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর উত্তেজিত জনতা পাথর ছুঁড়তে শুরু করে এবং সেনা ছাউনিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মণিপুর পুলিশ এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়। যৌথ বাহিনী জনতাকে হটাতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাসের গ্রেনেড ব্যবহার করে। পিছু হটার সময় উত্তেজিত জনতার একটি অংশ তাণ্ডব চালিয়ে অসম রাইফেলসের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। জওয়ানদের একটি হালকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং দুটি বড় ট্রাক উল্টে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। এই সহিংসতায় একটি সাধারণ নাগরিকের গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর।