পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নবান্ন সভাঘরে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন ও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের সঙ্গে রাজ্যের এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন হল। রাজ্যের কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ থেকে শুরু করে সার্বিক গ্রামোন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বার্তা দিল রাজ্য সরকার। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুষ্মন্ত কুমার মণ্ডল, মন্ত্রী অমিয় কিßুñ-সহ ডক্টর কল্যাণ চক্রবর্তী, শান্তনু প্রামাণিক এবং অশোক দিন্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরাও। রাজ্যের প্রান্তিক মানুষের জন্য আবাসন এবং ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টির মতো একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।
গ্রামীণ আবাস যোজনায় রাজ্যের জন্য বড়সড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যাচাই প্রক্রিয়া বা তালিকা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই এ দিন রাজ্য সরকারের হাতে এক লক্ষ নতুন বাড়ির অনুমোদন তুলে দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া ও বর্ষার পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির সময়সীমা ২০ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও মিলেছে বড় স্বস্তি। ১২৫ দিনের কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন আবেদনকারীদের কার্ডও দ্রুত অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ। আজকে দুটো বিষয় এখানে সুনিশ্চিত করেছেন মাননীয় শিবরাজ সিং চৌহান।’ তিনি আরও জানান, অদক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা, আধা-দক্ষদের ৪৫০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ৬০০ টাকা ধার্য করে ১২৫ দিনের কাজ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর জন্য জুন মাসেই রাজ্যের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র।
কৃষিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যেও এ দিন বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে আলুর বীজের জন্য পাঞ্জাব এবং পাটের বীজের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের ওপর নির্ভর করতে হয় রাজ্যকে। এবার সেই বীজ যাতে এ রাজ্যেই উৎপাদন করা যায়, তার দিশা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাজ্যের কোথায় কোন মাটিতে কী ধরনের ফসল ভালো হবে, তা নির্ধারণ করতে চারটি নতুন মাটি পরীক্ষাকেন্দ্র ও গবেষণাগারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুঁচুড়ায় উন্নত চাল গবেষণার নতুন ব্যবস্থা এবং মালদহে আমের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি আইসিএআর প্রজেক্ট ইউনিট গড়ার ছাড়পত্র মিলেছে। এ ছাড়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া;এই চারটি জেলাকে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করেছে কেন্দ্র।
পিএম কিষাণ সম্মান নিধির আওতা বৃদ্ধি এবং ভুট্টা, মাখানা, লিচু, ফুল ও পান চাষের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিকাঠামো ও নারীকল্যাণেও জোর দেওয়া হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাজ্যে ২৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির অনুমোদন মিলেছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু করার জন্য ইতিমধ্যেই ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, ৮০ লক্ষ সদস্যকে নিয়ে তৈরি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা এবং ‘লাখপতি দিদি’দের কল্যাণেও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্পূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা এবং আধিকারিকরা আজকের এই বৈঠক থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলিকে বাস্তবায়িত করতে এবং আমাদের জনগণের মাঝে প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা যাতে দ্রুত পৌঁছয়, তার জন্য আমরা কাজ করব।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানও রাজ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পশ্চিমবঙ্গের কর্মঠ, উন্নয়নশীল ও গতিশীল মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।