পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত বা মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে সমাজের অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স সত্তরের কম হলে তিনি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না। পাশাপাশি, ২০১১ সালের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জাতিগত জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে যে সমস্ত পরিবারকে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বা বঞ্চিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, তাঁরাও এই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন না।
আরও পড়ুন:
পেশাগত দিক থেকেও নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত এগারোটি পেশার বাইরের কোনও মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
এই নির্দিষ্ট পেশাগুলির মধ্যে মূলত রয়েছেন সাফাইকর্মী, পরিচারক, হকার, রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মতো শ্রমজীবী মানুষেরা। এছাড়া, সরকারি কর্মচারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সরকারি পেনশনভোগীদেরও এই প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ বাদ রাখা হয়েছে। মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মাসে দশ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় হলে আয়ুষ্মান কার্ড পাওয়া যাবে না।আরও পড়ুন:
আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিরিখেও একাধিক কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। যে সব পরিবারের নিজস্ব দু'চাকা বা চার চাকার মোটরগাড়ি রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
পাশাপাশি, যাঁদের কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশি ক্রেডিট লিমিট যুক্ত কিষাণ ক্রেডিট কার্ড রয়েছে, তাঁরাও আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। কৃষিজমির ক্ষেত্রেও নিয়মে কড়াকড়ি রয়েছে। যাঁদের পাঁচ একরের বেশি চাষযোগ্য জমি এবং নিজস্ব ট্রাক্টর রয়েছে, তাঁরা কোনওভাবেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।আরও পড়ুন:
তবে যে সমস্ত রাজ্যবাসী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের এই শর্তগুলির কারণে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, তাঁদের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ওই বঞ্চিত মানুষদের কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্বাস্থ্য বিমা চালুর কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের চালু করা এই নতুন প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের সাধারণ মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের মতোই বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা নগদহীন চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।