পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিদেশি শত্রুদের আক্রমণ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপ রুখতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে জাপান। মে মাসে জাপানের জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে এই সংক্রান্ত একটি নতুন আইন পাশ হয়েছে। কয়েক দশক ধরে মূলত মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকার পর প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এই পদক্ষেপকে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা। 

নতুন এই আইনের ফলে দুটি পৃথক সংস্থা তৈরি হতে চলেছে।

প্রথমটি হলো জাতীয় গোয়েন্দা পরিষদ, যা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্র বা কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। আর দ্বিতীয়টি হলো জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো, যা সরাসরি বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করবে। এর ফলে ‘ক্যাবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিস’ (সিআইআরও)-এর আমূল পরিবর্তন করে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থার সূচনা হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো পশ্চিমা মিত্রদেশগুলি এই নয়া সংস্থা গঠনে জাপানকে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছে।

বর্তমানে জাপান মূলত চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলির দিক থেকে তীব্র নিরাপত্তাজনিত হুমকির সম্মুখীন। জাপানে বর্তমানে কড়া কোনও গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী আইন না থাকায় বিদেশি গোয়েন্দারা অনায়াসেই সে দেশে কাজ চালাতে পারে, যে কারণে প্রাক্তন রুশ গোয়েন্দাদের অনেকেই জাপানকে ‘গুপ্তচরদের স্বর্গরাজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় মার্কিন মিত্র দেশগুলিকে নিজস্ব প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভর হওয়ার যে প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা-ও জাপানের এই নীতি বদলের অন্যতম কারণ। পুরোনো সিআইআরও-এর আইনি ক্ষমতার অভাব এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ঘাটতি মেটাতেই এই নতুন সংস্কারের পথে হেঁটেছে টোকিও।

গত অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হয়েছেন। ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন এবং ড্রোন ও লেজার শিল্ড নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাঁর সরকার।