পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটির সময়সীমা নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজের অবস্থান থেকে পিছু হটলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রবিবার চিকিৎসকদের ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সোমবার সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুর নরম করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানালেন, চিকিৎসকদের কোনও নির্দেশ বা আদেশ দেওয়া হয়নি, বরং এটি স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে একটি অনুরোধ মাত্র।

গত রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালের অধ্যাপক-চিকিৎসকদের সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করার কথা বলেছিলেন।

সরকার সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য বেতন দেয়, তাই এই নিয়মে না পোষালে চিকিৎসকদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো কড়া ভাষাও প্রয়োগ করেছিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই চিকিৎসক মহলে তীব্র শোরগোল এবং অসন্তোষ তৈরি হয়। চিকিৎসকদের একাংশ দাবি করেন, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া, বহু চিকিৎসক বাড়ি থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার দূরে যাতায়াত করে ডিউটি করেন।
যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে সপ্তাহে এত বিপুল সময় হাসপাতালে কাটানো তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।

চিকিৎসকদের এই ক্ষোভের পরেই সোমবার গোটা বিষয়টি স্পষ্ট করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। মূলত কলকাতা এবং শহরতলির বাইরে বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা তাঁদের কর্মস্থলের এলাকায় উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, তাঁদের টানা ৯৬ ঘণ্টা সক্রিয় ডিউটি করতে হবে। এর পাশাপাশি, সরকারি ডিউটি চলাকালীন কোনওভাবেই যাতে চিকিৎসকেরা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, সেই বিষয়েও দপ্তরের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে।