পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনরায় পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)। রবিবার জম্মু শহরের মহারাজা হরি সিং পার্কে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ঘোষণা করেন, আগামী ২০ জুলাই থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনা প্রদর্শনের মাধ্যমে এক নতুন আন্দোলন শুরু করতে চলেছেন তাঁরা। বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জম্মুতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটিই ওমরের প্রথম বড় জনসভা ছিল। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রকে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে, আর নয়।
আরও পড়ুন:
এর ঠিক আগের দিন, শনিবার শ্রীনগরের হযরতবাল এলাকায় দলীয় কর্মীদের এক সম্মেলনে জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন ওমর আবদুল্লা।
রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের টালবাহানা এবং জম্মু-কাশ্মীর সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টার জন্য বিজেপি নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। ওমর আবদুল্লা কটাক্ষ করে বলেন, "বিজেপি নেতারা আমাদের স্পষ্ট করে বলুন যে রাজ্যের মর্যাদার জন্য আমাদের কি ট্রাম্পের (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) কাছে যেতে হবে? আমাদের কি আমেরিকার হোয়াইট হাউসের বাইরে গিয়ে ধরনায় বসতে হবে?" তাঁর কথায়, "যতদিন না তেমন পরিস্থিতি আসছে, ততদিন আমরা আমাদের নিজেদের দেশের জাতীয় রাজধানীতেই বিক্ষোভ দেখাব এবং দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ব।"আরও পড়ুন:
ওমর আবদুল্লা কেন্দ্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করে লাদাখের উদাহরণ টেনে আনেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কেন্দ্র যেভাবে লাদাখের নেতৃত্ব ও জনগণের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে, আমাদের সাথে কেন সেই একই পথে হাঁটছে না?" তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপি সবসময় প্রচার করে যে ‘এক দেশে এক ধরণের শাসন ব্যবস্থা’ হওয়া উচিত। অথচ, সেই লাদাখের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্র এখন সংবিধানের ৩৭১ ধারার অধীনে বিশেষ সুবিধা ও সুরক্ষা প্রসারিত করতে প্রস্তুত। তাহলে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এই দ্বিচারিতা কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।আরও পড়ুন:
আগামী ২০ জুলাই, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে এই অনির্দিষ্টকালের ধরনা শুরু হতে চলেছে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম জম্মু ও কাশ্মীরের কোনো ক্ষমতাসীন দল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি দিল্লির বুকে এত বড় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে চলেছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।