মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার হামলার জবাবে ইরান পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে অথবা নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে বাহরাইনও। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত (সাইরেন) চালু করে নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে।
চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ অনুসরণ না করে চলাচলের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। আইআরজিসির ভাষ্য, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নির্ধারিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।