পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) খসড়া বিল পর্যালোচনার জন্য ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি খসড়া বিলের আইনি, সাংবিধানিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক দিকগুলি বিশদভাবে পরীক্ষা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।
মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, রেসিডেন্ট কমিশনার দুশ্যন্ত নারিয়ালা, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, বঙ্গবাসী কলেজের নৃতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বঙ্গীয় সম্ভাগের সহসভাপতি নির্মাল্য ভট্টাচার্য। সংঘমিত্রা ঘোষকে কমিটির সদস্য-আহ্বায়ক করা হয়েছে।


সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিটি খসড়া বিলের প্রতিটি ধারা খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনে সংশোধনী বা সুপারিশ পেশ করবে। পাশাপাশি বিলটি কার্যকর হলে তার সম্ভাব্য সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বিলটি আইনসভায় আনা হবে কি না, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
রাজ্য সরকারের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত দেওয়ানি আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই আইন প্রণয়নের আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা জরুরি বলেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, ওয়েস্ট বেঙ্গল, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়া বিলে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উইল ছাড়া উত্তরাধিকার এবং উইল অনুযায়ী উত্তরাধিকার-সহ ব্যক্তিগত দেওয়ানি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না বলে আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতে ইতোমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়েছে এবং অসমেও তা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। উত্তরাখণ্ডে এই আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও খসড়া পর্যালোচনার দায়িত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই।