যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর উভয় পক্ষ আপাতত নতুন হামলা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে চেষ্টা করছে। মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি দেশের উদ্যোগ এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর পরিকল্পিত নতুন হামলা আপাতত স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি যেন আরও জটিল না হয়, সে কারণে ওয়াশিংটন সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেও আপাতত আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত থাকলেও নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে দ্রুত সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন ফাইটার জেটগুলো দিন-রাত প্রতিরক্ষামূলক টহল অব্যাহত রেখেছে। কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে নতুন মার্কিন হামলার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।

এদিকে কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একাধিক দফা যোগাযোগ হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য, প্রথমে উত্তেজনা কমিয়ে উভয় পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং এরপর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি। তাদের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর থেকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।