পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:
পারস্য উপসাগরকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি তার বহনকারী বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ হামলা চালায়, তাহলে বিমানে থাকা সাংবাদিকরাও নিরাপদ থাকবেন না।
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার পর তার নিরাপত্তা এবং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি সব সময়ই বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে কৌতুকের সুরে ট্রাম্প বলেন, “আমি মারা গেলে তোমরাও মরবে। তাই তোমাদের মধ্যে কয়েকজনের হয়তো পেশা বদলে ফেলা উচিত।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প এবার তার নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তুরস্ক ত্যাগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে গত মাসে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের আগ্রাসনের জবাব দিতেই সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কঠোর জবাব দিয়েছে ইরানও। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের সামনে কোনো ‘রেড লাইন’ নেই।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির বাইরে নয়।
এদিকে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে কার্যত ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।