পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকা খুনের ঘটনার জেরে ছড়ানো হিংসা ও গণপিটুনির ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ, এসটিএফ এবং স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের যৌথ তল্লাশি অভিযানে এই পাঁচজন ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকায় এখনও ধরপাকড় জারি রয়েছে এবং আগামী দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
গত শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরই সূর্যপুর এলাকায় নাবালিকার মৃতদেহ নিয়ে চরম বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় সন্দেহের বশে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। পাশাপাশি এই হিংসার নেপথ্যে উসকানি থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন এবং দোষীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দিয়ে জানান যে যারা উস্কানি দিয়েছে তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই হিংসায় উসকানিদাতাদের ধরতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। প্রথম দিনে ১৮ জন এবং বৃহস্পতিবার সকালে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই ওই ৫ জন পুলিশের জালে ধরা পড়ে। অন্যদিকে, নাবালিকা খুনের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই জঘন্য অপরাধের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, মূলত প্রভাসের বিকৃত মানসিকতার কারণেই ওই নাবালিকাকে এমন চরম নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছিল। গণপিটুনির ঘটনা নিয়েও সমান্তরালভাবে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এদিকে, সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করতে আগামী শনিবার ফের বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, সেখানে গিয়ে তিনি একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন। এলাকা শান্ত রাখতে এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ওই পুলিশ ফাঁড়িটি নির্মাণের কাজ বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে।