পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল জমানায় রাজ্যে নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনায় দোষীদের রেহাই পেয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠত। পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের আর আদালতে পাঠানো হবে না, বরং সকালে ধরে বিকেলেই তার ফয়সালা করা হবে। বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের কাণ্ডে কার্যত তাঁর সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেল। গ্রেপ্তারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের পালটা এনকাউন্টারে খতম হল মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।
যেমনটা দেখা যায় যোগীরাজ্য উত্তর প্রদেশে। অন্তত এমনটাই দাবি করছেন বিরোধীরা।মঙ্গলবার দিনভর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ঠিক পৌনে একটা নাগাদ তদন্তের স্বার্থে প্রভাসকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে যায় স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তের বয়ানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক তথ্য মিলিয়ে দেখার জন্য ঘটনার পুনর্নির্মাণ শুরু করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পুনর্নির্মাণের কাজ চলাকালীন আচমকাই সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমর থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত প্রভাস। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দেয়। এই অতর্কিত হামলায় বিপদ বুঝে আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালান বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। তাতেই মৃত্যু হয় ওই অভিযুক্তের।
বারুইপুরের এই রোমহর্ষক এনকাউন্টার অপারেশনের নেপথ্যে থাকা দুই অফিসারই রাজ্য পুলিশের অত্যন্ত দুঁদে আধিকারিক এবং তাঁরা বর্তমানে দুটি আলাদা থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১৪ সালের ব্যাচের অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখায় কর্মরত। তবে এর আগে তিনি সোনারপুর, কুলতলি এবং জয়নগর থানার দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সামলেছেন। এছাড়াও বারুইপুর এসওজি-র ইনচার্জ হিসেবেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অন্যদিকে, ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার রনি সরকার তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে। পরবর্তীকালে নিজের যোগ্যতায় পদোন্নতি পেয়ে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআই পদের দায়িত্ব পান। নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর ও বকুলতলার মতো একাধিক থানায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে এসেছেন। উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই নারকীয় ঘটনার তদন্তের জন্য সিট গঠন করার সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই দুই অফিসারের উপরেই সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন। আর কার্যক্ষেত্রে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাঁরা সেই আস্থারই মর্যাদা রাখলেন।