প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইন্দোনেশিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাকার্তায় ভারতের রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, গত বছর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতে এসেছিলেন। এই সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক “ঊর্ধ্বমুখী”। মোদির সফরে পাঁচটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা হবে—প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, খাদ্য ও সার নিরাপত্তা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য।

 
মালাক্কা প্রণালী ঘিরে সমুদ্রপথের নিরাপত্তাকে দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর মতো সংকট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কেউ চায় না এবং কোনও দেশেরই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনি ইঙ্গিত দেন, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আসছে “ব্রহ্মোস প্লাস”। প্রথমবারের মতো ভারত সেনা পাঠাবে বহুজাতিক গারুডা শিল্ড সামরিক মহড়ায়।
ডিজিটাল ক্ষেত্রে, ভারতের ওএনডিসির আদলে তৈরি ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম মোদির সফরেই চালু হতে পারে।
এতে প্রায় ৬.৫ কোটি এমএসএমই উপকৃত হবে। এছাড়া ইউপিআই চালুর আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহেও আগ্রহী দুই দেশ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নিকেল ভাণ্ডার রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। ভারত এতে সরাসরি বিনিয়োগ করতে চাইছে। উল্লেখ্য, ১৯২৭ সালে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর স্মরণে উদযাপন শুরু হবে মোদির সফরেই।